দেশে ১৯ বছরে ২৫০ সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু
সংবাদের আলো ডেস্ক: বাংলাদেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় গত ১৯ বছরে অন্তত ২৫০টি সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত প্রাণীদের বেশির ভাগ বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন ও তিমি।
এসব প্রাণীর মৃত্যুর প্রধান কারণ ভূতুড়ে জাল ও ফাঁস জালে আটকে যাওয়া। জালে আটকা পড়ে পানির ওপরে উঠতে না পারায় অক্সিজেনের অভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যে মারা যায় প্রাণীগুলো।আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করা সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির গবেষণা এবং বন বিভাগ ও সংগঠনটির যৌথভাবে করা জাতীয় বেজলাইন জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেশের ৪৫টি নদীর মোট ৪ হাজার ৮৯৩ কিলোমিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এতে দেখা যায়, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ এলাকায় ১০৮টি শুশুক ও ডলফিন মারা গেছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছয়টি বিশালাকার তিমি ও ৬০টি বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন। আর ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মৃত উদ্ধার করা হয়েছে ৭৬টি সামুদ্রিক প্রাণী।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর ৬৫ শতাংশের জন্য দায়ী ভূতুড়ে জাল ও ফাঁস জাল।
এসব জালে আটকে গেলে ডলফিন, তিমি ও অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী পানির ওপরে উঠতে পারে না। ফলে শ্বাস নিতে না পেরে পানির মধ্যে মারা যায়।
বর্তমানে দেশের নদী ও উপকূলীয় অববাহিকায় প্রায় দুই হাজার ৩০৭টি গাঙ্গেয় ডলফিন টিকে আছে। তবে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় প্রাণীর মৃত্যু এবং আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
এদিকে বাংলাদেশে গত দেড় দশকে ১৮টি বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে।
এর আগের দশকে বিলুপ্ত হয়েছিল ১৩টি। গত ২৫ বছরে দেশ থেকে ৩১ প্রজাতির বন্য প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক জরিপে এ তথ্য জানায়।
আইইউসিএনের তালিকা অনুযায়ী, বিলুপ্ত প্রাণীর মধ্যে ১৯ প্রজাতির পাখি, ১১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী ও এক প্রজাতির সরীসৃপ রয়েছে। এ ছাড়া বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ৯০ প্রজাতির প্রাণী। দেশের ৩৯০ প্রজাতির বন্য প্রাণী কোনো না কোনোভাবে বিপন্ন। এর মধ্যে ৫৬ প্রজাতি মহাবিপন্ন, ১৮১ প্রজাতি বিপন্ন এবং ১৫৩ প্রজাতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।