সবজিতে মিলছে না স্বস্তি, মাছ-মাংস কিনতে ক্রেতাদের হিমশিম
সংবাদের আলো ডেস্ক: রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজি বাজারে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তা পুরোপুরি মেলেনি। টমেটো, গাজর ও কাঁচামরিচের মতো নিত্যপণ্য এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, মাছ ও মাংসের দর আগের মতোই চড়া থাকায় নিত্যদিনের বাজার করতে এসে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটসহ আশপাশের বাজার ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন দরদাম ও ক্রেতাদের আক্ষেপের চিত্র দেখা গেছে। আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এ কারণে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও কমতে পারে।
একই মার্কেটের আরেক সবজি বিক্রেতা সোহাগ মিয়া জানান, শীতের সবজি আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা কমতির দিকে। তবে সব ধরনের শীতের সবজি এখনো পুরোপুরি নামেনি। ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর কেজি হিসাবে নিলে দর পড়ে ৬০ টাকা।
বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং মুলা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা ও আলু ২৫–৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতাদের অভিযোগ, চড়া দামের পণ্যের তালিকাও ছোট নয়। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “ফুলকপি বা শিমের দাম একটু কমলেও টমেটো আর গাজর কিনতে গেলে হাত পুড়ছে। ১২০ টাকার নিচে টমেটো বা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি সবজির দাম কমায় পুরো বাজারে স্বস্তি এসেছে এমনটা বলা যাবে না।
এদিকে, সবজিতে সামান্য ছাড় মিললেও মাছ ও মাংসের বাজারে গিয়ে বাজেটে বড় টান পড়ছে ক্রেতাদের। বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং ইলিশের দর মানভেদে ৮০০ থেকে ২,৩০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।
আজমপুর বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী তানভীর আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সবজি কিনে যেটুকু টাকা বাঁচানোর চেষ্টা করি, মাছ-মাংসের বাজারে গিয়ে তা নিমেষেই শেষ হয়ে যায়। পাঙাশ-তেলাপিয়া ছাড়া মাঝারি মানের যেকোনো ভালো মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটানো এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাংসের বাজারও রয়েছে আগের মতোই উত্তপ্ত। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২০০ থেকে ১,২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আজমপুর বাজারের মাংস বিক্রেতা মো. জহিরুল বলেন, খামারি ও পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমলে আমাদের পক্ষে কমে বিক্রি করা সম্ভব না। আমরা যে দামে কিনে আনি, সামান্য লাভে তা-ই বিক্রি করছি। দাম না কমায় ক্রেতারাও এখন পরিমাণে কম কিনছেন।
সবজির দামের সামান্য ওঠানামা আর মাছ-মাংসের বাজারের নীরব উত্তাপ মূলত সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্রটিই তুলে ধরে। নিত্যপণ্যের বাজারে সামান্য স্বস্তির আভাস মিললেও মাছ, মাংস ও চড়া দামের সবজি কেনাকাটায় সাধারণ মানুষের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উত্তরার বাসিন্দাদের প্রতিদিনের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কার্যকর বাজার মনিটরিং ও সরবরাহ শৃঙ্খলের দ্রুত উন্নতি না হলে সাধারণের এই আক্ষেপ ও বাজেটের টান দূর হওয়া সহজ নয়।


সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।