কালীগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পরে প্রাণ হারালেন স্কুল শিক্ষিকা, আহত ২
পঙ্কজ সরকার নয়ন, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জে টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ঝড়ের কবলে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে চলন্ত অটোরিকশার ওপর পড়ে এক স্কুল শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও দু’জন।
মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) দুপুরে টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের শিমুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিউলি (৩৫) স্থানীয় শিমুলিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টির সময় শিউলি অটোরিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। পথে শিমুলিয়া রেলগেটের পূর্ব পাশে পাওয়ার প্লান্ট অফিসের সামনে পৌঁছালে রাস্তার পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটি সরাসরি অটোরিকশাটির ওপর ভেঙে পড়ে। ওই সময় খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল থাকায় ঘটনাস্থলেই শিউলির মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, একটি খুঁটি ভেঙে পড়ার সময় তারের টানে লাইনের আরও অন্তত ১০ থেকে ১২টি খুঁটি রাস্তার ওপর হেলে পড়ে। লাইনে বিদ্যুৎ থাকায় ছিঁড়ে পড়া তারগুলো পাশের একটি পুকুরে পড়লে মুহূর্তেই পুকুরের সব মাছ মরে ভেসে ওঠে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং টঙ্গী-ঘোড়াশাল-সিলেট
আঞ্চলিক মহাসড়কে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে নারী, শিশুসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এই নতুন লাইনটির কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। কিন্তু খুঁটিগুলো বসানোর সময় নিয়ম অনুযায়ী গভীরতা নিশ্চিত করা হয়নি এবং গোড়ায় পর্যাপ্ত মাটি দেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য ঝড় ও বৃষ্টিতেই খুঁটিগুলো আলগা হয়ে জনজীবনের ওপর মরণফাঁদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, “অব্যবস্থাপনার কারণেই আজ একজন শিক্ষিকার প্রাণ গেল। খুঁটিগুলোর গোড়া শক্ত থাকলে এমনটি হতো না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত জোনাল অফিসের উপ-পরিচালক মো. আক্তার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে দ্রুত লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মহাসড়কে যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় রাস্তা থেকে খুঁটিগুলো সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে অকালপ্রয়াত প্রিয় শিক্ষিকার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।