চিকিৎসা সেবা ব্যহত, ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্স নানা সমস্যায় জর্জরিত
আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভ‚ঞাপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার, বেড, ডেন্টাল যন্ত্রপাতি, ডেন্টাল এক্সরে মেশিন, ইসিজি, ইলেট্রোলাইজ এনালাইজার, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, টিকেট কাউন্টার ও টিকেট ক্লার্ক স্টোর রুম ডাক্তারদের রুমসহ নানা সংকটের কারণে প্রায় ৫ লাখ জনগোষ্ঠী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সংকট নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালটি ৪টি উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল, গোপালপুর ও কালিহাতী উপজেলা থেকে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, বেড, ডেন্টাল যন্ত্রপাতি, ডেন্টাল এক্সরে মেশিন, ইসিজি, ইলেট্রোলাইজ এনালাইজার, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, টিকেট কাউন্টার ও টিকট ক্লার্ক স্টোররুম ডাক্তারদের রুমসহ নানা ও সংকটের কারণে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিধি মোতাবেক বিশেষজ্ঞসহ ২২ চিকিৎসকের পদ অনুমোদন রয়েছে। সেখানে ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে ৮টি। বাকি ১৪ জনের মধ্যে ২ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পদোন্নতি জনিত কারণে চলে যাবেন। এনেসথেসিয়া ডাক্তার, গাইনী চিকিৎসক, চক্ষু চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ সার্জন, ডেন্টাল মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ২জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ফিজিও, হিসাব রক্ষক, টিকেট ক্লার্ক, ৬ জন অফিস সহায়ক, ১ জন নিরাপত্তা প্রহরী, ২ জন আয়া, ২ জন পরিচ্ছন্ন কর্মী, গাড়ি চালকসহ বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা দারুণ ভাবে ব্যহত হচ্ছে।
হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও ডাক্তারদের আবাসিক ভবনগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালে এমনিতেই স্বল্প পরিসর তার ওপর সব সময়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন রোগি মেঝে ও বারান্দায় ভর্তি থাকে। হাসপাতালে রোগির স্বজনদের বসার কোনো সুব্যবস্থা নেই।
স্বাস্থ্য সহকারী, টেকনিশিয়ান, ল্যাবরেটরি এসিস্ট্যান্ট ও এমএলএসএস পদে ১টি করে পদ থাকলেও কোনো জনবল নেই। অফিস সহকারী ২ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১ জন, স্বাস্থ্য সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে ৫টি। সিকিউরিটি গার্ড থাকার কথা ৩ জন, সেখানে রয়েছে মাত্র ১ জন।
হাসপাতালে একটি এক্সরে মেশিন থাকলেও ফিল্ম স্বল্পতার কারণে সেবাকার্যক্রম ব্যবহার হচ্ছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সনোলজিস্ট না থাকায় সেটিও ব্যবহার হচ্ছে না। প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে নামে মাত্র কিছু পরীক্ষা করা হয়। এ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। জেনারেটর দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট থাকায় বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে মোম জ¦ালিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনসহ গুরুত¦পূর্ণ ঔষধের অভাবে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে।
উপজেলা পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লুৎফর রহমান আজাদ জানান, ডাক্তার সংকটসহ সকল সমস্যা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি অতি দ্রæত সময়ের মধ্যে এই সংকট সমাধান হবে। হাসপাতালটি যমুনা বিধৌত চরাঞ্চলের কথা বিবেচনা করে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা প্রয়োজন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।