ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগপত্র দাখিল
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গত ১লা এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি টিম বিশেষ অভিজান পরিচালনা করে শিবচর উপজেলার সন্যাসীরচর ইউনিয়নের শরীফকান্দি এলাকা থেকে ইয়ামাহা ব্রান্ডের কালো রঙ্গের একটি R15 চোরাই মোটর সাইকেল উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে চোর চক্রের সদস্য সাইমুন হাওলাদার নামে একজনকে আটক করা হয়। তখন সাইমুন হাওলাদার জানান মোটরসাইকেলটি সাদ্দাম মোল্লা ও মাসুম মুন্সী তার নিকট রেখেছে বিক্রয়ের জন্য। পরবর্তীতে সাইমুনের বিবরন ও তথ্য প্রমান অনুযায়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই আবুল কাশেম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।মামলার তদন্তে দায়িত্বভার জেলা গোয়েন্দা শাখার উপ পরিদর্শক এস এ এম ফরহাদ রাহী মীরের উপর দেওয়া হলে তিনি ঘটনা তদন্ত করে গত ২৯ জুন ২০২৪ তারিখে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।মামলার চার্জশীটে তদন্ত কর্মকর্তা উল্যেখ করেন, তদন্তকালে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় ও জনশ্রুতিতে প্রকাশ পায় যে, অত্র মামলার ০২ নং আসামী সাদ্দাম।মোল্যা (২৬) অভ্যাশগতভাবে অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন চোরের সহায়তায় দেশের বিভিন্নস্থানে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল সল্প মূল্যে ক্রয় করিয়া অধিক মূল্যে বিক্রয় করিয়া আসিতেছে। তার বিরুদ্ধে ধারা- ৪১১/৪১৩ পেনাল কোড ১৮৬০ বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হলো।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, সাদ্দাম মোল্যা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহৃত পুরাতন মোটরসাইকেলের ব্যবসা করে। আমিও একটা ইয়ামাহা বাইক কিনেছিলাম ডিজিটাল নম্বরপ্লেট সহ। কাগজ আছে বলেছে। কয়েকদিন পর কাগজ দেয়ার কথা থাকলেও সে বাইকের কাগজ নিয়ে অস্পষ্ট কথা বলতে থাকে। হঠাৎ একদিন দেখি আমার বাইকের পেছনে থাকা ডিজিটাল নম্বরপ্লেট টি নেই। তখন তার কাছে আমি জোর দিয়ে বাইকের কাগজ চাইলে তিনি আমাকে বলেন শিবচর মাদারীপুরে আমিই কাগজ। কোনো কাগজ দরকার নেই। এ নিয়ে বৈঠক পর্যন্ত হয়েছে। পরবর্তীতে আমি জানতে পারি বাইকটি মূলত কাগজবিহীন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আরো একজন বলেন, সাদ্দাম আমাকে বললো একটি ভালো মোটরসাইকেল বিক্রয় হবে মাত্র দেড় লাখ টাকায়। ডিজিটাল প্লেট সহ অল কম্পিলিট। আমি নগদ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনলাম। কয়দিন পর শুনি এটার কাগজ নাই। ওর কাছে কাগজ চাইলাম, ও আমরে লামছাম বলে। এমন শত শত মোটরসাইকেল নাকি ওর নামের উপর চলে, কাগজ লাগে না। এখন সেই মোটর সাইকেল নিয়ে বিপদে আছি।এবিষয়ে সাদ্দাম মোল্লা মুঠোফোনে বলেন,আদালতে চার্জসীট দেওয়া বিষয়টি আমি জানি না।

এই ব্যাপারে শিবচর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আসিফ হোসেন মাদবর বলেন, বিষয়টি জানি, বিষয়টি শুনেছি আমরা। সে যেই গাড়িটি বিক্রি করছে সে গাড়িটি (মোটরসাইকেল) আসলে চোরাই। গাড়িটি যার কাছে বিক্রি করছে তাকেও নাকি পুলিশ ধরছে এবং সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তার কাছ (সাদ্দাম মোল্লার) থেকে কিনেছে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে খুঁজতে গিয়েছিলো কিন্তু তাকে পায়নাই। আমরা যতটুকুন জানি সে জড়িত। কিন্তু প্রমানিত যদি আইনগত ভাবে হয় তাহলে প্রমানিত। যদি চার্জশিটে নাম চলে যায় তাহলে বিষয়টি নিয়ে উপরস্থ নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করবো। যদি প্রমানিত হয় সে এটার সাথে জড়িত তহলে আমরা তার বিরুদ্ধে দলগত বা সাংগাঠনিক ভাবে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নিবো।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।