বেলকুচিতে রাস্তা নির্মাণের আগেই অর্থ আত্মসাৎ, ইউএনও বরাবর এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ
উজ্জ্বল অধিকারী: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে তালুকদার মেটুয়ানি গ্রামের রাস্তা নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ইউএনও বরাবর এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবী, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষন কর্মসুচির আওতায় রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল দুই লক্ষ টাকা। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ১৩ হাজার টাকার মতো কাজ হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের নামে বালু বা নতুন মাটি আনা হয়নি, বরং সড়কটির সামান্য মাটি ও আগাছা কেটে সমান করে কাজের নাম করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টি-আর প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্ডের একটি মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ হয়। কাজের দায়িত্বে প্রকল্প সভাপতি ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য এরশাদ আলম।
তবে কাজের গুণগতমান ও পরিমাণ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী। তাদের দাবি, বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি, বরং প্রকল্পের নামে লোক দেখানো কাজ করে অধিকাংশ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম জানান, ভেবেছিলাম এই প্রকল্পে আওতায় রাস্তা ভালো হবে। কিন্তু কাজের কাজ তো কিছুই হয়নি। দেখে মনে হয় রাস্তা নির্মাণ শুধু নামেই হয়েছে। রাস্তার শুরুতে আগের মাটি একটু টেনে সমান করেছে। নতুন বালু-মাটি কিছুই দেয়নি। আমরা এই রাস্তার জন্য খুব ভোগান্তিতে আছি।
ধুকুরিয়া বেড়া ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি সিনিয়র সহ সভাপতি হাজী মোঃ ফজলুল হক মন্ডল জানান, আমরা দেখেছি বালু বা নতুন মাটি কিছুই আনা হয়নি। রাস্তার মাটি কেটে হালকা সমান করে দিয়েছে। এটা স্পষ্ট টাকা আত্মসাৎ। আমরা আমাদের বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে রাস্তা চাই। এজন্য আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা গ্রামবাসীরা তার পদক্ষেপ গ্রহনের আশায় রয়েছি। তিনি বিষয়টি যদি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য এরশাদ আলম মুঠোফোনে বলেন, বেলকুচি উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রইচ উদ্দিন সরদার এমপির ডিও লেটারে দুই লাখ টাকার মাটির কাজ নেয়। আমি ইউপি সদস্য হিসেবে কাজের সভাপতি। কাজ শুরু করার পরেই বন্যা চলে আসে এর জন্য কাজ শেষ হয়নি। তবে বাকি কাজ করা হবে।
বেলকুচি উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রত্যাশী হাজী রইচ উদ্দিন সরদার বলেন, এমপি সাহেব দুই লাখ টাকার মাটি রাস্তার কাজ দিয়েছিলো। দুই কিস্তিতে টাকা তুলে কাজ শেষ করেছি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাজের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত করে এলাকাবাসীর দেওয়া অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।