পূর্বাচলে ক্রিয়েটিভ সেন্টার গড়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের : অর্থমন্ত্রী
সংবাদের আলো ডেস্ক: দেশের সংস্কৃতি, বিনোদন ও পর্যটন খাতকে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে পূর্বাচলে ১৬০ একর জায়গাজুড়ে একটি সমন্বিত ক্রিয়েটিভ সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, থিয়েটার, শিল্পকলা, ডিজাইন, বিনোদন ও সৃজনশীল কার্যক্রমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ কেন্দ্র শুধু মানুষের বিনোদনের নতুন ক্ষেত্রই তৈরি করবে না, বরং সংস্কৃতিকে আয়মুখী করে কর্মসংস্থান ও পর্যটনেরও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, বিদেশি পর্যটক কম আসা এখনই বড় উদ্বেগের বিষয় নয় বরং দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য সুযোগ ও অবকাঠামো তৈরি করা গেলে তা অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোতে মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্রিক অবকাঠামো নেই। বর্তমানে সামাজিক আমন্ত্রণ বা রেস্তোরাঁয় যাওয়া অনেকের কাছে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হয়ে আছে। এ বাস্তবতায় সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র আওতায় বিনোদন ও পর্যটনকে একীভূত করে নতুন অর্থনৈতিক কার্যক্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে প্রায় ১৬০ একর জায়গাজুড়ে একটি বড় ক্রিয়েটিভ সেন্টার তৈরির কাজ নেওয়া হচ্ছে। সেখানে থিয়েটার, বিনোদন, ডিজাইনার শপ, চারুকলা, শিল্পীদের প্রদর্শনীসহ নানা ধরনের আয়োজন থাকবে। একজন মানুষ যেন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো সময়টুকু সেখানে কাটাতে পারেন—সেই ধারণা থেকে পরিকল্পনাটি নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই করতে হলে সেগুলোকে আয়মুখী করতে হবে। যারা সৃজনশীল কাজ করবেন, তাদেরও আয় হতে হবে এবং মানুষও বিনোদনের সুযোগ পাবে। এ কারণে সরকার ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে মনিটাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংগীত, লোকসংস্কৃতি ও লালন ধারার মতো বহু সম্পদ থাকলেও সেগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি। অথচ বিশ্বের অনেক দেশ সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে সফলভাবে অর্থনীতির অংশে পরিণত করেছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির অংশ হিসেবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করছে। দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র, হেরিটেজ সাইট এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থান সংরক্ষণ ও উন্নয়নে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সংগীত ও সৃজনশীল শিল্পের এখন আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে। কোরিয়ান সংগীত বা নাটকের মতো বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতিকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু এখনো সে সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।
তিনি আরও বলেন, দেশের হাজার হাজার তরুণ শিল্পী, গায়ক, নাট্যকর্মী ও সৃজনশীল মানুষ কাজ করার সুযোগ পেলেও আয় করার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হয়নি। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা হবে। সফট পাওয়ারের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সংস্কৃতি ও বিনোদনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে, বাংলাদেশকেও সে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এতে দেশের ভেতরে বিনোদন বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক–টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরুর প্রথম বাজেট।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।