রায়গঞ্জে মহাসড়কে ‘চেইন মেইনটেইনের’ নামে সিএনজি রাখলেই ১০ টাকা চাঁদা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মহাসড়কের পাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাখার নামে চালকদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ‘চেইন মেইনটেইন’ করার কথা বলে প্রতি সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার চান্দাইকোনা পশুর হাটের সামনে সিএনজি চালকদের কাছ থেকে এ টাকা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক চালক। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় চালকদের লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত শেষে মো. ফিরোজ উদ্দিন (স্থানীয়ভাবে পরিচিত) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চান্দাইকোনা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফিরোজ উদ্দিন চান্দাইকোনা ইউনিয়নের তাতবাড়ী এলাকার মৃত ছাইফ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চান্দাইকোনা পশুর হাটের সামনে মহাসড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রেখে যাত্রী ওঠানামা করেন চালকেরা। বিশেষ করে হাটের দিন শনিবার ও মঙ্গলবার সেখানে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে ‘চেইন মেইনটেইন’ করার কথা বলে প্রতিটি সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে আদায় করা হতো।
চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে গাড়ি রাখার জন্য কোনো সরকারি বা অনুমোদিত ব্যবস্থার আওতায় তাঁরা এ টাকা দিচ্ছেন না। ব্যক্তিগতভাবে টাকা আদায় করায় বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
চান্দাইকোনা পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় সিএনজি চালক মো. হেলাল, মো. রাসেল, মো. জহুরুল ইসলামসহ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়।
চালক মো. হেলাল বলেন, “সরকারি জায়গায় গাড়ি রাখলেই ১০ টাকা দিতে হয়। আমরা চাঁদা দিতে চাই না। টাকা দিতে না চাইলে অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়া হয়।”
চালক মো. রাসেল বলেন, “মহাসড়কের পাশে গাড়ি রাখার জন্য কোনো ব্যক্তিকে আমরা অবৈধভাবে টাকা দিতে চাই না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
চালকদের পক্ষ থেকে মো. আশরাফুল আলম রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ফিরোজ উদ্দিন বলেন, “আমার জায়গায় সিএনজি রাখা হয় বলেই আমি টাকা নিই। কেউ টাকা না দিলে তো আমি জোর করে টাকা নিতে পারব না।”
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ফিরোজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “চালকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ফিরোজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আহসানুজ্জামান বলেন, “মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফিরোজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
এর আগে বিষয়টি নিয়ে চালকদের অভিযোগের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানিয়েছিলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনোভাবেই চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।
চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে যাত্রী ওঠানামা ও গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের টাকা আদায়ের কারণে তাঁদের প্রতিদিনের আয় থেকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যাশা, পুলিশের মামলার পর বিষয়টির স্থায়ী সমাধান হবে এবং মহাসড়ক বা সরকারি জায়গায় গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে টাকা আদায়ের সুযোগ পাবেন না।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।