সোমবার, ২৩শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সালিশে চোর সাব্যস্ত, অপমান সইতে না পেরে নারীর আত্মহত্যা

সংবাদের আলো ডেস্ক: পটুয়াখালীর গলাচিপায় চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে সেলিনা বেগম (৫০) নামের এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর চরখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামী পরিত্যক্তা সেলিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ এলাকায় ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে বসবাস করতেন। সম্প্রতি বেড়িবাঁধ সংস্কারের কারণে উচ্ছেদ হলে তিনি পাশেই একটি ঝুপড়িতে বসবাস শুরু করেন। কয়েকদিন আগে তিনি প্রতিবেশী আলমগীর শিকদারের বাড়ির বারান্দায় থাকতেন।

গত ১৭ মার্চ ওই বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও রুপার গহনা চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাড়ির লোকজন সেলিনা বেগমকে সন্দেহ করে। পরে সেদিন সন্ধ্যায় স্থানীয়দের নিয়ে সিরাজুল সিকদারের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সালিশে সেলিনা বেগমকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ‘চোর’ স্বীকার করানো হয়। এমনকি তার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়।

সেলিনার ছেলে ইফাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সালিশে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তার মাকে মারধর করে এবং ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করেন এবং চোরাই স্বর্ণ ঈদের পরে দিন দিতে স্বীকারোক্তি নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তাকে মারধর করা হয় এবং নখ তুলে ফেলার ভয় দেখানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, সেলিনা বেগম দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং তার বিরুদ্ধে আগে কখনো চুরির অভিযোগ শোনা যায়নি।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে সেলিনা বেগম তার ছেলেকে ফোন দিয়েছিলেন। পরে তিনি ঘরে গিয়ে তার মাকে মৃত অবস্থায় পান। স্বজনদের দাবি, চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে তিনি গ্যাড ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে সালিশদার সিরাজুল সিকদার নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। শুধু একটি স্ট্যাম্প স্বাক্ষর রাখা হয়েছিল।

এদিকে, চুরি হওয়া গহনার মালিক আলমগীর মাস্টার দাবি করেন, সেলিনা বেগম চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন এবং গহনা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।

গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়