,

শিরোনাম

এবার লোহিত সাগর পাড়ি দিতে নিতে হবে হুথিদের অনুমতি

সংবাদের আলো ডেস্ক: লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের আগে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ করছে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান। জাহাজের পরিচয় ও যাত্রাপথের তথ্য পাঠিয়ে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা চাইছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই- এমন তথ্যও কোনো কোনো জাহাজের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা বদলে গেছে, এ ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজ পরিচালনাকারীরা হুথিদের প্রতিষ্ঠিত ‘হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ বা এইচওসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে গড়ে তোলা এ সংস্থার কাছে জাহাজের পরিচয়, গন্তব্য ও সম্ভাব্য যাত্রাপথের তথ্য পাঠানো যায়।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাহাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা ইসরায়েলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এরপর নিরাপদে লোহিত সাগর পাড়ি দেওয়ার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব আবেদনের জবাব দেওয়া হয়। আবেদন পর্যালোচনার পর কোনো কোনো জাহাজকে নির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেয় হুথিরা।

এই ব্যবস্থা যে শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার উদাহরণও তুলে ধরেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। গত ১৬ আগস্ট পাঠানো একটি ই-মেইল আবেদনে জাহাজের পরিচয় ও পরিকল্পিত যাত্রার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছিল। আবেদনটি করেছিল চীনের কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘ঝং চেং চাং লিং’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটিকে সাত দিনের জন্য চলাচলের অনুমতি দেয় হুথিরা। একই সঙ্গে যাত্রাপথে জাহাজটির স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এআইএসের মাধ্যমে একটি জাহাজের পরিচয়, অবস্থান, গতি ও চলাচলের দিক সম্পর্কে তথ্য সম্প্রচারিত হয়। 

ফলে অন্য জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটির অবস্থান শনাক্ত করতে পারে। জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দুটি ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে- লোহিত সাগর দিয়ে সংক্ষিপ্ত পথে যাওয়া, নাকি ঝুঁকি এড়াতে পুরো অঞ্চল ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া।

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি ভারত মহাসাগরকে সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে প্রভাব পড়ে।

লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলার কারণে পথটি আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তার কারণে কিছু জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ বেছে নিয়েছে।

তবে দীর্ঘ পথের কারণে জ্বালানি খরচ, সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে লোহিত সাগর দিয়ে যাত্রা অব্যাহত রাখতে কিছু প্রতিষ্ঠান হুথিদের কাছ থেকে নিরাপদে চলাচলের আশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছে।।হুথিদের এই ই-মেইল ব্যবস্থা ব্যবহারের অর্থ এই নয় যে, লোহিত সাগরে প্রবেশের আগে সব জাহাজকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। হুথিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই- এমন জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার পর কিছু জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এইচওসিসির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক জাহাজ এখনো এই ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষও জাহাজগুলোকে এইচওসিসির সঙ্গে যোগাযোগ বা সেখানে নিবন্ধন না করার পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ, হুথিদের দেওয়া অনুমতিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো নৌ চলাচল ছাড়পত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে হুথিরা। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী লোহিত সাগরে পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটে। হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে এবং দেশটির জাহাজ, ভূখণ্ড ও তেল স্থাপনায় হামলা শুরু করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সংঘাত নতুন করে বেড়েছে। সব মিলিয়ে, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুথিদের এই ই-মেইল ব্যবস্থা নতুন এক বাস্তবতা তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষের পরিবর্তে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছ থেকে নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস নিতে হচ্ছে কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতির জটিলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়