,

শিরোনাম

বয়স পেরিয়েছে পঞ্চাশ , এখন কোরআন শেখার নেশা

খাইরুল ইসলাম (কামারখন্দ) সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: মাগরিবের নামাজ শেষ হয়েছে। মসজিদের ভিতরে বসে আছেন কয়েকজন বয়স্ক মানুষ। কোরআন শরীফ উচ্চারণ করে পড়ছেন আয়াত। বয়সের ভারে কারও শরীর নুয়ে এসেছে, চুলে পাক ধরেছে। তবু শেখার আগ্রহে চোখেমুখে অন্যরকম উচ্ছ্বাস।

তাঁদের কেউ সবজি বিক্রি করেন, কেউ দিনমজুর, কেউ ছোটখাটো ব্যবসা করেন। সবার বয়স ৫০ বছরের বেশি। জীবনের নানা ব্যস্ততা, অভাব আর পারিবারিক সমস্যার কারণে ছোটবেলায় কোরআন পড়ার সুযোগ হয়নি। সেই অপূর্ণতা পূরণ করতেই গত কয়েকমাস ধরে নিয়ম করে তারা মসজিদে কোরআন শরীফ পড়া শেখেন, মুখস্থ করেন। পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও সহীশুদ্ধভাবে আদায়ের চেষ্টা করছেন।

শুক্রবার রাতে  সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে গিয়ে দেখা গেল এমনই এক দৃশ্য। শেখ আব্দুস সালাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনা মূল্যে কোরআন শেখা ৪২ জন বয়স্ক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় কোরআন শরীফ।

শুধু কোরআন শরীফই নয়, তাঁদের একজনের জন্য ছিল আরও বড় একটি উপহার। লটারির মাধ্যমে ৭০  বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম (তারা) নামের এক ব্যক্তিকে ওমরাহ পালনের সুযোগ দিয়েছে স্যাম ট্র‍্যাভেলস এন্ড ট্যুরস নামের একটি প্রতিষ্ঠান।  

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, এটি তাদের কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের দ্বিতীয় ব্যাচ। ২০২৫ সালের ৯ জুলাই থেকে এই ব্যাচের পাঠদান শুরু হয়। প্রতিদিন মাগরিবের নামাজের পর থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত চলে কোরআন শেখানোর কার্যক্রম।

প্রতিদিনের কয়েক ঘণ্টার পাঠে বয়স বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। কর্মজীবনের ব্যস্ততা শেষে কেউ দোকান থেকে, কেউ সবজি বিক্রি করে, কেউ দিনমজুরের কাজ শেষ করে মসজিদে এসে বসেছেন। ধীরে ধীরে শিখেছেন কোরআনের অক্ষর, শব্দ ও আয়াতের শুদ্ধ উচ্চারণ। একই সঙ্গে নামাজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোও শিখেছেন।

ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রম আরও  তিন মাস চলবে। এরপর শুরু হবে তৃতীয় ব্যাচ। এর মাধ্যমে আরও বয়স্ক মানুষকে বিনা মূল্যে কোরআন শেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট হুজুরেরা বিভিন্ন হাদিস ও জ্ঞানমূলক আলোচনা করেন। পরে ৪২ জনের হাতে কোরআন শরীফ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লা আল মামুন সহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম আব্দুল মোমেন।

জীবনের পাঁচ দশক পার করে কেউ আবার কোরআন পড়তে শিখছেন, কেউ নামাজের ভুলগুলো শুধরে নিচ্ছেন। তাঁদের কাছে এই শেখা শুধু একটি নতুন পাঠ নয়; বরং দীর্ঘদিনের অপূর্ণতা পূরণেরও এক সুযোগ। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে তাই প্রতিদিন মসজিদের পথে হাঁটছেন তাঁরা কোরআনের অক্ষরগুলো শুদ্ধ করে পড়ার আশায়।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়