আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খাল খনন, ঘটনাস্থলে হাজির বিচারক
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ব্যক্তিগত জায়গার উপর দিয়ে খাল খননের অভিযোগ উঠেছে মোঃ আব্দুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে। তিনি গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কৃষি সেচ উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বর্তমান সরকারের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওয়াতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শাহজাদপুরে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ে ২ কিলো. ১৫০ মিটার খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। কিন্তু নালিশী মৌজার নকশায় উল্লেখিত খালের জমি ব্যতীত ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে উক্ত ইউনিয়নের মাকড়কোলা গ্রামের মৃত মাজেদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ সুফিয়া খাতুন এবং তার ছেলে মোঃ রায়হান সরকার, মোঃ আব্দুল মান্নান সরকার, মোঃ তৌফিক সরকার ও মোছাঃ মুসলিমা খাতুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৪ মে শাহজাদপুর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোঃ শানু আকন্দ ব্যক্তি মালিকানাধীন নালিশী জমির উপরে খাল খননে অন্তবর্তীকালীননিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উক্ত জায়গায় খাল খনন না করার জন্য গারাদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহকে নির্দেশ প্রদান পূর্বক নোটিশ জারি করেন। কিন্তু আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকল্পের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ খাল খনন অব্যাহত রাখেন।
এরপর বিষয়টি ভুক্তভোগীরা আদালতের নজরে আনলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গদতঙ্গলবার (১৯ মে) বিকালে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোঃ শানু আকন্দ ঘটনাস্থলে নিজে উপস্থিত হন। এবং সরেজমিনে নালিশী জমি পরিদর্শন করেন। এসময় বিচারকের উপস্থিতি বুঝতে পেরে খননের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ সটকে পড়েন।
পরবর্তীতে আদালতের বিচারক মোঃ শানু আকন্দ নালিশী জায়গায় অভিযুক্ত বিবাদী প্রকল্পের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় খাল খনন করবেন না মর্মে উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মুখে প্রতিশ্রুতি নেন। এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নালিশী জায়গায় কেন খাল খনন করেছে তার লিখিত কারণ দর্শানোর আদেশ প্রদান করে।
এসময় বিচারকের সাথে উপস্থিত ছিলেন, আদালতের অফিস সহকারী মোঃ বায়েজিদ, বাদীপক্ষের আইনজীবীর প্রতিনিধিসহ শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান ও মাহমুদুল হাসান সহ থানা পুলিশের একটি দল।
এই বিষয়ে গাড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও উক্ত প্রকল্পের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান লাগিয়ে দেয়। সেভাবেই আমরা খাল খনন করছিলাম। আজ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মহোদয় সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবেই আমরা কাজ করবো বলে জানান তিনি।
এ সময় নালিশি জায়গায় খাল খনন কার্যক্রম বন্ধে একজন বিচারকের সরেজমিনে উপস্থিত হওয়ায় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আদালতের এমন কার্যকর ও জনমুখী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।