বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

অপেক্ষার অবসান, বাজারে আসছে ‘ট্রাম্প মোবাইল’

সংবাদের আলো ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় এক বছর আগে ‘ট্রাম্প মোবাইল’ বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বছরের জুনে ট্রাম্পের ছেলেদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ট্রাম্প অর্গানাইজেশন জানায়, আগস্ট থেকে বাজারে আসবে ফোনটি।

সে সময় আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে জামানতও নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় এক বছর পার হলেও ফোনটির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য জানা যায়নি। 

অবশেষে ক্রেতাদের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে স্বর্ণখচিত ‘ট্রাম্প ফোন’।

বুধবার (২০ মে) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। ট্রাম্প ফোনের দাম ধরা হয়েছে ৪৯৯ ডলার। এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১।’ 

বিশ্লেষকদের মতে, এটা দেখতে অনেকটাই চীনে নির্মিত টি-মোবাইল রেভেল ৭ প্রো ৫জি জিএসএম ফোনের মতো। ওয়ালমার্টে ওই ফোনটি ২০০ ডলারে বিক্রি হয়।

ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে ‘শর্তাধীনে’ ফোন ডেলিভারির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, যারা ১০০ ডলার জামানত রেখে ‘প্রিঅর্ডার’ করেছিলেন, তারা সবাই ফোনটি নাও পেতে পারেন। পরিবর্তিত শর্ত মতে, ১০০ ডলার জামানত রাখা মানেই এই নয় যে ইউজার ফোনটি পাবেন। এটি একটি ‘বিশেষ শর্তের আওতায় পাওয়া সুযোগ’।

ওয়েবসাইটে এসব তথ্য প্রকাশের পর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে ফোন ডেলিভারির বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন।

একটি পোস্টে বলা হয়, ‘যারা টি১ ফোন প্রি-অর্ডার করেছিলেন, তারা শিগগির ইমেইলে আপডেট পাবেন। এ সপ্তাহেই ফোনগুলো ইউজারদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে’।

ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট ও’ব্রায়েন সিএনএনকে জানান, ‘গুণগত মান ঠিক রাখতে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফোনটির চাহিদা অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও ধাপে ধাপে অর্ডার অনুযায়ী ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সবাই আরাধ্য ফোনটি হাতে পেয়ে যাবেন।’

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিস-এর বিশ্লেষক ম্যাক্স ওয়েইনবাখ বলেন, ‘অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে আনতে কমপক্ষে ১৮ মাস সময় লাগে। সফটওয়্যার চূড়ান্ত করা, উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করতেই অনেক সময় লেগে যায়।’

ট্রাম্প ফোনের কয়েকটি বিষয় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘ট্রাম্পের ব্র্যান্ড’ ও সোনালী অবয়ব যথাস্থানেই থাকলেও, আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রতিশ্রুত সবগুলো ফিচার চূড়ান্ত মডেলে থাকছে না। তুলনামূলকভাবে ছোট স্ক্রিন ও কম মেমোরি থাকবে এতে।

ট্রাম্প মোবাইল মূলত একটি বিশেষায়িত ‘অ্যান্ড্রয়েড ফোন’। শুরুতে এর প্রচারণায় ‘মেইড ইন ইউএসএ’ বলা হলেও দ্রুত এই দাবি থেকে সরে আসে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। পরবর্তীতে জানানো হয়, ‘মার্কিন মূল্যবোধ মাথায় রেখে এটি তৈরি করা হয়েছে’।

মোবাইল ফোন খাতের বিশ্লেষকরা শুরুতেই ‘মেইড ইন ইউএসএ’ দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ দাবি করেন, ফোনের ডিজাইন ও ফিচার চীনে নির্মিত অপর একটি ফোনের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের ওয়ার্ল্ডওয়াইড ডিভাইস ট্র্যাকার বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান রেইথ সিএনএনকে বলেন, এ ধরনের শব্দগুলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

ফোন তৈরির প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। অ্যাপলের ফোনের ডিজাইন তৈরি হয় ক্যালিফোর্নিয়ায়। তবে নির্মাণ হয় চীন ও ভারতের মতো জায়গায়, যেখানে শ্রম-খরচ অপেক্ষাকৃত কম। পাশাপাশি, ফোনের ডিজাইন বা নকশা ‘আমেরিকান’ হলেও এর ছোট ছোট আনুষঙ্গগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

ফোনের আরেকটি বিষয় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন ‘সাবেক’ ব্যবসায়ী, তিনি এ মুহূর্তে দেশের প্রেসিডেন্ট। এ পরিস্থিতিতে নিজের নাম ব্যবহার করে ‘ব্র্যান্ড’ তৈরি করা ও পণ্য বিক্রি করার বিষয়টি কতটুকু নৈতিক, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে ট্রাম্প নিজে নয়, ফোন বিতরণের সঙ্গে যুক্ত তার দুই ছেলে এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র। 

ফোনের ডেটা ও ভয়েস প্যাকেজের দাম ধরা হয়েছে ৪৭ ডলার ৪৫ সেন্ট। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অর্জনকে বিশেষায়িত করা হয়েছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়