কলম্বিয়ায় বিমান বিধ্বস্তে নিহত বেড়ে ৬৬
সংবাদের আলো ডেস্ক: দক্ষিণ আমেরিকা দেশ কলম্বিয়ার বিমানবাহিনীর একটি ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬৬ জন নিহত হয়েছেন।
সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন সেনা, ছয়জন বিমানবাহিনীর সদস্য এবং দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। রয়টার্সের একাধিক সূত্রও অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, সোমবার (২৩ মার্চ) পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দমকল বাহিনীর মতে, রানওয়ের শেষ প্রান্তে একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
বিমানে থাকা বিস্ফোরক সামগ্রীর কারণে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনার সময় বিমানে মোট ১২১ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১১০ জন সৈন্য ও ১১ জন ক্রু সদস্য। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা মোটরসাইকেলে করে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় সরকারি উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর কলম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামরিক বাহিনীর আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি কাজের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমাদের তরুণদের জীবন ঝুঁকির মুখে। যারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ, তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’
লকহিড মার্টিন নির্মিত এই সি-১৩০ বিমানগুলো কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে সৈন্য পরিবহনের জন্য দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বিধ্বস্ত বিমানটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ করা আধুনিক মডেলগুলোর একটি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন দুর্ঘটনার তদন্তে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে বলিভিয়াতেও একই মডেলের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় সামরিক সরঞ্জামগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সূত্র : রয়টার্স



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।