বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

খেলার ছলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মামলা ও শিশু গ্রেপ্তার, উত্তাল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর

মো: শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির গ্রামে খেলার ছলে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা এখন রূপ নিয়েছে গুরুতর মামলা ও শিশুকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়। পঞ্চম শ্রেণির দুই সহপাঠীর ‘ম্যাজিক দেখানো’র চেষ্টা থেকে আগুনে দগ্ধ হয় মারুফ শেখ (১২)।

এ ঘটনায় অপর সহপাঠী রিমাজ শেখ (১২)–কে বয়স ১৯ বছর দেখিয়ে আসামি করে মামলা দায়ের ও তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার বিবরণ গত ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে ননীক্ষির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের একটি ব্রিজের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমাজ মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুনের সামনে ফুঁ দিয়ে ‘ম্যাজিক’ দেখানোর সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মারুফের মুখ ও গায়ে আগুন লেগে যায়। মারুফ গুরুতর আহত হন।

মামলা ও পাল্টা অভিযোগ মামলা সূত্রে জানা যায়, আহত মারুফের মা মুঞ্জু বেগম অভিযোগ করেন—পূর্ব শত্রুতার জেরে তার ছেলের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানো হয়েছে এবং ঘটনার সময় রিমাজের বাবা-মাও মারধর করেছেন। তবে এই অভিযোগকে অস্বীকার করে রিমাজের মা নাছিমা বেগম বলেন, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্বামী কেউই বাড়িতে ছিলেন না। বরং দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তাদের শিশুসন্তানকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়; পরে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

স্কুল ও সহপাঠীদের বক্তব্য ননীক্ষির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শোভা রানী বিশ্বাস জানান, ঘটনার দিন দুই ছাত্রই স্কুলে আসেনি এবং স্কুলসংলগ্ন ব্রিজেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে আপোষ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রিমাজ ও মারুফের সহপাঠী রকিবুল ইসলাম বলেন, “দু’জনেই একসাথে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

” পুলিশের অবস্থান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুকসুদপুর থানার এসআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রিমাজ নিজেই ৬০ টাকা দিয়ে পেট্রোল কিনে আনে এবং খেলার ছলে এই ঘটনা ঘটে। রিমাজের বাবা-মা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথাও পুলিশ বিবেচনায় রেখেছিল। এলাকায় ক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবি ১২ বছরের শিশুকে গ্রেপ্তার ও মামলার অভিযোগের ধরন নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি—এটি পরিকল্পিত অপরাধ নয়, বরং শিশুদের অসচেতন খেলাধুলার ফল।

সুষ্ঠু ও মানবিক তদন্তের মাধ্যমে রিমাজের মুক্তি এবং ঘটনার ন্যায়সংগত সমাধান চান স্থানীয়রা। এখন প্রশ্ন একটাই—খেলার ছলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় শিশুদের ভবিষ্যৎ কি অপরাধের বোঝা বইবে, নাকি মানবিক ও আইনসম্মত সমাধানে ফিরবে স্বাভাবিক জীবন?

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়