বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পুর্ন মন্ত্রীর পুরুস্কার পেলেন দুলু

নুরুল ফেরদৌস,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: উপমন্ত্রী থেকে পুর্ন মন্ত্রীর পুরুস্কার পেলেন লালমনিরহাট ৩ ( সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি এলাকায় ম্যাজিশিয়ান নেতা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।

মঙ্গলবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন আসাদুল হাবিব দুলু। এটা তার মন্ত্রী পরিষদের দ্বিতীয় শপথ।

জানা গেছে, গত ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যাবধানে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করে লালমনিরহাট ৩ (সদর) আসনে চার দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুল হাবিব দুলু। বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের ওই মন্ত্রী সভার উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। প্রথমে যোগাযোগ মন্ত্রনালয় দেয়া হলেও পরে ২০০১-০৬ পর্যন্ত খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

দায়িত্ব পেয়ে পুরো জেলাকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগসহ উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা শব্দকে বিদায় জানান তিনি। জেলার বড় দাবির মধ্যে ছিল নদী ভাঙন রোধ করা। সেটাও তিনি মন্ত্রী পরিষদ সদস্য হিসেবে তিস্তার বাম তীরে একাধি সলেডি স্প্যার বাঁধ নির্মান করেন। নানা মুখী উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডে দেশ ব্যাপী আলোচনায় আসেন এ জনপ্রতিনিধি।

শুধু এলাকার উন্নয়ন নয়, সংগঠনিক ভাবে বিএনপিকেও করেছেন শক্তিশালী। সাংগঠনিক ভাবে বিএনপি এতটাই শক্তিশালী হয় যে, গত ২০১৪ সালের আওয়ামীলীগের একতরফা নির্বাচনে লালমনিরহাটের ১৯টি কেন্দ্রে শুন্য ভোট ছিল। যা দেশে নয় গোটা বিশ্বে রেকর্ড করে। যার কারনে তাকে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। সাংগঠনিক কাজের পরিধি বাড়ে দুলু’র।

ফ্যাসিস আওয়ামীলীগের বিদায়ের পরে রংপুর অংঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি গঠন করেন দুলু। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক আসাদুল হাবিব দুলু’র নেতৃত্বে তিস্তা নদীর তীরে টানা ৪৮ ঘন্টা অবস্থান কর্মসুচি পালন করে তিস্তাপাড়ের লাখো মানুষ। যে আন্দোলনে বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একাত্ব ঘোষনা করেন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এ আন্দোলনের খবর গোটা বিশ্ব মিডিয়া কভার করে নতুন করে আলোচনায় আসেন আসাদুল হাবিব দুলু।

ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট ৩ আসনে প্রায় ৮৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুল হাবিব দুলু। বিপুল ভোটে বিজয় এবং গোটা রংপুর অঞ্চলে নেতৃত্ব দেয়া তথা তিস্তাপাড়ের মানুষকে সুংসংগঠিত করার পুরুস্কার হিসেবে তাকে দ্বিতীয় বার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসেবে অন্তভুক্ত করেছে বিএনপি। তাকে পুর্বের দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হলেও এবার তাকে পুর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ম্যাজিশিয়ান নেতা দুলু’র এ অর্জনকে বিগত দিনের পুরুস্কার হিসেবে দেখছেন রংপুর অঞ্চলের মানুষ।

রিকশা চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগেও দুলু ভাই ছোট মন্ত্রী হয়ে জেলার অনেক উন্নয়ন করেছেন। এবার তো বড় মন্ত্রী হয়েছেন। এবার তিস্তা মহাপরিকল্পনাও হবে। কারন, দুলু ভাই সেটাই করেন যা তিনি মুখে বলেন। দুলু ভাই হামার গরিবের মন্ত্রী।

কলেজ শিক্ষক তাপস কুমার পাল বলেন, বিগত দিনের সফলতায় এবার আসাদুল হাবিব দুলুকে পুর্ণ মন্ত্রীত্ব দিয়ে গোটা রংপুর বিভাগকে পুরুস্কৃত করেছে বিএনপি। এটা লালমনিরহাট বাসীর জন্য বড় সৌভাগ্যের। আমরা প্রত্যশা করি, তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ অবহেলিত রংপুর অঞ্চল এবার আলোকীত হবে।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপি’র যুগ্ন সম্পাদক একেএম মমিনুল হক বলেন, দীর্ঘ বঞ্চিত উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের সুদৃষ্টি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই এ অঞ্চলের গণমানুষের নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ভাইকে পুর্ণ মন্ত্রীত্ব দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষকে সম্মানীত ও  পুরুস্কৃত করেছেন। দুলু ভাইকে সম্মানীত করায় গোটা রংপুর অঞ্চলের মানুষের প্রত্যশা পুরন হয়েছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়