আধুনিক চেম্বার অব কমার্স গঠনে সহযাত্রী হতে চান পরিচালক পদপ্রার্থী দিলীপ গৌর
উজ্জ্বল অধিকারী: সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীদের বৃহৎ সংগঠন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি বার্ষিক নির্বাচন। এই নির্বাচনে এসোসিয়েট গ্রুপে পরিচালক পদে নির্বাচন করছেন মেসার্স গৌর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দিলীপ কুমার গৌর। এই নির্বাচনকে ঘিরে আশা–প্রত্যাশায় মুখর পুরো ব্যবসায়ী মহল। তিরি সকলের পরিচিত মুখ। মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, সাধারণের পাশে দাঁড়ানো তার গুণ।
ব্যবসায়ীদের উন্নয়ন–অগ্রগতিতে তিনি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান। তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নে ভুমিকা রেখেছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে প্রকাশিত পত্রিকা দৈনিক শ্যামল বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসায়ী সমাজের সমৃদ্ধি এবং চেম্বারের উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে তার অভিজ্ঞতা ও ভিশন নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাতে পারে। তিনি বলেছেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ২০২৫ এবং সিরাজগঞ্জের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্ভাবনার পথ দেখাবে।
ব্রিটিশ আমল থেকেই সিরাজগঞ্জ বাংলা অঞ্চলের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। রাজধানী কলকাতার সঙ্গে সরাসরি রেলসংযোগের ফলে বাংলার পূর্বাঞ্চল ও আসাম অঞ্চলের বাণিজ্য কার্যক্রমে শহরটি দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অর্জন করে। ভৌগোলিক সুবিধা, যমুনা নদীকেন্দ্রিক নৌ-বাণিজ্য এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে সে সময় সিরাজগঞ্জকে “দ্বিতীয় কলকাতা” হিসেবেও অভিহিত করা হতো।
ব্রিটিশ ভারতের বিভাজন-পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে সিরাজগঞ্জ তার প্রাথমিক বাণিজ্যিক গুরুত্ব কিছুটা হারালেও সাম্প্রতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে শহরটি পুনরায় জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবাহের কেন্দ্রে স্থান করে নিচ্ছে। ডাবল লাইনের যমুনা রেল সেতু এবং যমুনা সড়ক সেতুর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সিরাজগঞ্জের যোগাযোগ এখন আরও দ্রুত, কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য হয়েছে।
একই সঙ্গে যমুনা নদীকে কেন্দ্র করে নৌ-পরিবহনের মতো স্বল্পব্যয়ী পরিবহন সুবিধা এ অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্যক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করেছে। এই কৌশলগত সুবিধাকে সামনে রেখে সয়দাবাদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি শিল্পাঞ্চল—সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন (প্রায় ১,০০০ একর)। পাশাপাশি ৪০০ একর জমিতে নির্মিত বৃহত্তম বিসিক শিল্পপার্ক, পরিকল্পনাধীন একটি ইপিজেড, যমুনা রেল সেতুকে কেন্দ্র করে আধুনিক ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (ICD) এবং যমুনাকেন্দ্রিক সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প এ অঞ্চলে শিল্পায়নের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করছে।
যদি চলমান সব প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, তাহলে আগামী দশকের মধ্যেই সিরাজগঞ্জ একটি পূর্ণাঙ্গ, গতিশীল ও আধুনিক শিল্পনগরীতে রূপান্তরিত হবে—এ বিষয়ে কোনো সংশয় নেই। তবে এই অগ্রযাত্রা বাস্তবায়নে এখনও কিছু কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—বিসিক শিল্পপার্কে প্লট হস্তান্তর সম্পন্ন হলেও পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি; সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোনে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের কার্যক্রমও সম্পূর্ণ হয়নি। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন একান্ত প্রয়োজন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ২০২৫ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সামনে যে বিপুল বাণিজ্যিক ও শিল্প সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল, জবাবদিহিমূলক এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যবসায়িক নেতৃত্ব। সঠিক কৌশলগত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এখান থেকেই সৃষ্টি হতে পারে লক্ষাধিক কর্মসংস্থান; পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য উন্মুক্ত হবে বিস্তৃত নতুন সুযোগ।
আমরা বিশ্বাস করি—চেম্বারের সম্মানিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত পরিচালনা কমিটিই ভবিষ্যতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সিরাজগঞ্জকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পনগরীতে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে। সিরাজগঞ্জের এই সম্ভাবনার উন্মেষ শুধু একটি জেলার উন্নয়ন নয়—এটি সমগ্র দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।