,

শিরোনাম

বেলকুচি  মৎস্য অফিসে মিলছে না সেবা: ভোগান্তিতে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা 

উজ্জ্বল অধিকারী: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় মৎস্য চাষিরা। এছাড়া  মাঠপর্যায়ে টেকনিক্যাল পরামর্শের অভাব, কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও রোগাক্রান্ত মাছের চিকিৎসায় কার্যকর সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। 

​স্থানীয় মাছচাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুকুরে মাছের রোগব্যাধি দেখা দিলে বা প্রজাতিভিত্তিক চাষাবাদের আধুনিক পরামর্শের জন্য অফিসে গিয়ে অধিকাংশ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। ক্ষেত্রবিশেষে কর্মকর্তা বা ক্ষেত্রসহকারীরা অফিসে থাকলেও চাষিদের সমস্যা শুনে তাৎক্ষণিক মাঠ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেই। 

মাহিন শেখ নামের এক উদ্যোক্তা চাষি জানান, আমি পড়াশোনার পাশাপাশি একুরিয়ামে রঙিন মাছের ব্যবসা করি। এতে কিছুটা লাভের মুখ  দেখলে ব্যবসা প্রসারের উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রঙিন মাছের পরিবর্তে শিং মাছের চাষের উদ্যোগ নেই। পরীক্ষা মূলক ৩ ইঞ্চি পরিমান চার হাজার পিছ শিং মাছের পোনা ক্রয় করে বাসার চাষ শুরু করি। কিন্তু তা পানিতে ছাড়ার দুই দিন পর শাতধিক মাছের পোনা মরে ভেসে ওঠে।

পরে স্থানীয় এক মৎস্য চাষির পরামর্শে পুকুরে সব মাছ তুলে পটাশে ১০ মিনিট ভিজিয়ে ও মাছের পানি পরিবর্তন করলেও মাছ মরা বন্ধ না হলে উপজেলা মৎস্য অফিসে পরামর্শের জন্য যাই। সেখানে গিয়ে  মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ চাইলে তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ৪-৫ দিনের ব্যবধানে আমার পোনা মাছ মরে প্রায় শেষ পর্যায়ে। এতে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। আমি একজন ছাত্র মানুষ হয়ে এই আর্থিক ক্ষতি কিভাবে পোষাবো তা বুঝতে পারছি না। 

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় মৎস্যচাষি বলেন, “মাছের মড়ক বা পানিদূষণের সমস্যা দেখা দিলে সরকারি পরামর্শ পাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। কিন্তু মৎস্য অফিসে গেলে কর্মকর্তা না থাকা অথবা কালক্ষেপণের কারণে আমাদের নিজস্ব বুদ্ধিতে বা বাজার থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা করতে হয়। এতে অনেক সময় ভুল ওষুধ ব্যবহারে পুরো পুকুরের মাছ নষ্ট হয়ে বড় অংকের লোকসান গুনতে হয়।”

​মৎস্য খাতের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, সময়মতো ঋণ সহায়তা ও কারিগরি দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় স্থানীয় সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত পিছিয়ে পড়ছে। অফিসের সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মিলছে না।

​এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত ) 

অঞ্জন কুমার রায় জানান, মা  ইলিশ সংরক্ষন অভিযান চলমান থাকার কারণে আমাদের সেবা কার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হচ্ছে। তবে তারপরও আমরা চেষ্টা করছি মৎস্য চাষিদের সাধ্যমত পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য। জনবল সংকট ও দাপ্তরিক ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় সেবা প্রদানে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে চাষিদের সেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়