বৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

আজ বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস

সংবাদের আলো ডেস্ক: আজ ২৩ এপ্রিল, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চা বাড়ানো এবং সৃজনশীলতার সুরক্ষায় কপিরাইটের গুরুত্ব তুলে ধরতেই দিনটি পালন করা হয়। দিনটির মূল লক্ষ্য বই পড়া, প্রকাশনা শিল্প এবং কপিরাইট সুরক্ষা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ উপলক্ষে বইমেলা, আলোচনা সভা, লেখক-পাঠক সংলাপসহ নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।

যিনি বই ভালোবাসেন তিনি বইয়ের পাতায় অক্ষরে অক্ষরে ডুবে যেতে পারেন। বই পড়ুয়াদের থাকে আলাদা জগৎ। একটি বইয়ের পাতায় ডুব দিলে আপনি পৌঁছে যাচ্ছেন অন্য এক জগতে, পরিচিত হচ্ছেন এমন সব চরিত্রের সঙ্গে, যারা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে অনেক অনেক চেনা বন্ধু। একটি বইয়ের প্রতিটি পাতা উল্টানোর সঙ্গে আসে নতুন কোনো অভিযান, নতুন কোনো শিক্ষা—যা আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেয়, পৃথিবীকে দেখার চোখকে করে আরও বিস্তৃত।  

দিবসটির ইতিহাস: 

বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবসের ইতিহাস সত্যিই চমকপ্রদ এবং এটি বইয়ের শক্তি ও লেখকদের অধিকারকে সম্মান জানানোর একটি অনন্য উদাহরণ। ১৯২২ সালে স্পেনের বার্সেলোনার একজন প্রকাশক ভিসেন্তে ক্লাভেল আন্দ্রেস প্রস্তাব দেন একটি দিনকে বইয়ের জন্য উৎসর্গ করার—বিশ্বখ্যাত লেখক মিগেল দে সেরভান্তেসকে সম্মান জানাতে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ১৯২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার এই দিবসটি উদযাপিত হয়।

পরবর্তীতে সাহিত্য জগতের আরও কয়েকজন মহান ব্যক্তিত্ব—যেমন উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, মিগেল দে সেরভান্তেস এবং ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগা—এর মৃত্যুদিন স্মরণে ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কো ২৩ এপ্রিলকে “বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে।

এই দিনটি নির্বাচন করা হয়েছে তার গভীর সাহিত্যিক গুরুত্বের জন্য এবং মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে। একই সঙ্গে এটি লেখকদের সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতি দেয় এবং তাদের কাজের স্বত্বাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে।

এই দিবস উপলক্ষে সারা বিশ্বে নানা কর্মসূচি পালিত হয়—বই দান, পাঠ প্রতিযোগিতা, উন্মুক্ত পাঠসভা, কপিরাইট আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি। কখনও কখনও ইউনেস্কো শিশু ও তরুণদের সাহিত্যে সহনশীলতা প্রচারের জন্য বিশেষ পুরস্কারও প্রদান করে।

এছাড়া প্রতি বছর একটি শহরকে “বিশ্ব বই রাজধানী” হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যা বৈশ্বিকভাবে সাক্ষরতা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

সব মিলিয়ে, এই দিনটি শুধু বই বা লেখক উদযাপনের নয়—এটি আপনাকে মনে করিয়ে দেয়, একটি বই কিভাবে একজন মানুষকে বদলে দিতে পারে। ব্যক্তিগত বিকাশ, জ্ঞান অর্জন এবং সংস্কৃতির আদান-প্রদানে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম।

বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস তাই এক বিশেষ দিন—যেখানে বই, লেখক এবং সৃজনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা একত্রিত হই, এবং উদযাপন করি জ্ঞানের অশেষ ভাণ্ডারকে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়