শুক্রবার, ২৭শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

সরকারী আদেশে অমান্য করে রমজানেও চলছে “সেন্ট মেরীস গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ”

পঙ্কজ সরকার নয়ন, গাজীপুর প্রতিনিধি: পবিত্র রমজান মাসে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা থাকলেও গাজীপুর কালীগঞ্জে সরকারী আদেশে অমান্য করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সেন্ট মেরীস গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ বিরুদ্ধে। খ্রিস্টান মিশনারি পরিচালিত এই স্কুল কর্তৃপক্ষ সরকারী ছুটি উপেক্ষা করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় অভিভাবক ও সুধীমহলে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত স্কুল এবং কলেজে দুটিতে স্বাভাবিক ক্লাস চলতে দেখা যায়। সকালে অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছেন এবং দুপুরে ছুটি হলে তাদের নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। রমজান আমাদের ইবাদতের মাস। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করলেও ক্লাসের চাপে তা পারছে না। এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অভিভাবকদের চাপের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ জারি করে নিয়মিত ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দিলেও, ষষ্ঠ শ্রেনীর রেজিস্ট্রেশন ও দশম শ্রেনীর পরিক্ষা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেনীর ‘দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ক্লাসের নামে কার্যক্রম সচল রাখার কথা জানিয়েছে।

সেন্ট মেরীস গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও বলেন্, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আমাদের ফোন এবং প্রতিনিধি পাঠিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেছেন। কিন্তু স্কুল এবং ছাত্রীদের স্বার্থে আমাদের কলেজে ক্লাস চলমান রয়েছে এছাড়া দশম শ্রেনীর পরীক্ষা চলমান। পরীক্ষা শেষ হলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেওয়া হবে।

সরকার আদেশ অমান্য করে স্কুল কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূর-ই-জান্নাত বলেন, সেন্ট মেরীস গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং সরেজমিনে একাডেমিক সুপারভাইজার, জিনাত রেহানা শারমিন ভিজিট করেছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করবো।

উলেক্ষ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়। এই ছুটির আওতায় হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব দিবস, শবেকদর (১৭ মার্চ), জুমাতুল বিদা (২০ মার্চ), ঈদুল ফিতর (২১ মার্চ) এবং স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) অন্তর্ভুক্ত ছিল। অর্থাৎ টানা ৩৬ দিন সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকার কথা।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়