রবিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কুড়িগ্রামের সহকারী শিক্ষক মোছা. মর্জিনা বেগম থাকেন আমেরিকায় চাকুরী করেন দেশে

রতন রায়, স্টাফ রিপোর্টার: কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ফকিরকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর নামমাত্র ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং সরকারি বেতন-ভাতা ভোগের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মর্জিনা বেগমের স্বামী রানু মিয়া ও তাদের ছেলে ও ছেলের বউ ইতোমধ্যে আমেরিকায় নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

মর্জিনা বেগমও প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে নাগরিকত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তবে এতদিন ধরে তার অনুপস্থিতি ও আচরণ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাজিরা খাতায় ২ জুন ২০২৫ পর্যন্ত মর্জিনা বেগমের স্বাক্ষর থাকলেও, ৩ জুনের পর থেকে তা ফাঁকা রয়েছে। এর আগেও ২০২৪ সালের ২২ মার্চ থেকে ২০২৫ সালের ১ জুন পর্যন্ত সময়েও তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছে ৩ মাসের ছুটির আবেদন করেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছুটি মঞ্জুরের ক্ষমতা না থাকায় তা অনুমোদন করেননি। পরে তিনি রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কাছে আবেদন করে ২৪ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মোট ২৫ দিনের ছুটি অনুমোদন নেন, যার কপি স্কুলে পৌঁছায় ২৫ জুলাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, “মর্জিনা বেগমের ছুটির বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না, শুধু একটি ছুটির চিঠি পেয়েছি উপজেলা অফিস থেকে।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (চ.দা.) মো. কামরুজ্জামান জানান, “ওই শিক্ষিকা তার অসুস্থ স্বামীকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন।

২৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। এর বেশি সময় থাকলে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাহেদুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তারা মনে করছেন, একজন সরকারি কর্মচারী বছরের পর বছর নিয়ম লঙ্ঘন করে বিদেশে অবস্থান করলে, তাতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়