বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যা আতঙ্ক

সংবাদের আলো ডেস্ক: উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৫২.১৫ মিটার অতিক্রম করেছে। এতে নীলফামারীর তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ নতুন করে বন্যা আতঙ্কে পড়েছেন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, সকালে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ৩টার দিকে তা নেমে আসে ২২ সেন্টিমিটার নিচে। তবে সন্ধ্যার পর দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করে এবং বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে ডিমলা, জলঢাকা, গঙ্গাচড়া ও আশপাশের নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পানি বাড়ার কারণে তিস্তার তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাতীবান্ধার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। চরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষজন নৌকা ও ভেলায় চলাফেরা করছেন।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে পানি বাড়ছে। এতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে অনেকেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছে। পুকুরের মাছ ভেসে যেতে শুরু করেছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে আমন চাষ ও অন্যান্য ফসল।

ডিমলার পূর্বখড়িবাড়ী গ্রামের এক কৃষক জানান, ‘কয়েকদিন ধরে পানি ওঠানামা করছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে পানি হু হু করে বাড়ছে। আমাদের আমন ধানের চারা সব তলিয়ে যাচ্ছে। খুব ভয় লাগছে।’

বাইশপুকুর চরের বাসিন্দারা বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হই। এবারও একই অবস্থা মনে হচ্ছে। সাহায্য চাই না, চাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছি।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়