বৃহস্পতিবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

উলিপুরে আলিম পরিক্ষা দিতে পারেনি লিমা, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি

উ‌লিপুর,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে আলিম পরিক্ষা দেয়া হল না লিমা আক্তার (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীর। স্বভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি। দেখতে দেখতে জীবনের ১৯টি বছর কেটে গেলেও ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কখন যে মরণ অসুখ বাসা বেঁধেছে তার কিডনিতে। যখন টের পেলেন তখন তার দুটো কিডনিই বিকল হয়ে গেছে।

উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মধ্য সাদুল্যা ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে লিমা। লিমার দু’চোখে মুঠো মুঠো স্বপ্নের বদলে শুধুই মৃত্যুর বিভীষিকা। চোখ বুঝে অবসন্ন শরীর নিয়ে জীবনকে মহাকালের কাছে সোপর্দ করার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন লিমা। দিনমজুর খেটে খাওয়া বাবার সামর্থ্য নেই অর্থ ব্যয় করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার। তারপরও তার পরিবারের চেষ্টার কমতি নেই। নিরূপায় হয়ে লিমাকে বাঁচাতে সমাজের সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা আব্দুল লতিফ।

বাবা আব্দুল লতিফ দিনমজুর মা মাছুমা বেগম গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে লিমা বড়। লিমা সাদুল্যা সরকারপাড়া মোস্তফাবিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০২৩ সালে দাখিল পরীক্ষায় ‘বি’ গ্রেডে পাশ করে ওই মাদ্রাসায় আলিম ক্লাসে ভর্তি হন। সে এবারে আলিম পরিক্ষার্থী ছিলেন। নিয়তির পরিহাস চলতি বছরের মার্চ মাসে অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি বিশেষজ্ঞকে দেখালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে লিমার দু’টি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে জানান চিকিৎসক। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেয়ে দিন দিন লিমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। বর্তমানে লিমা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। 

শিক্ষার্থী লিমা বলেন, আমি বাঁচতে চাই। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। আমি লেখাপড়া করতে চাই। আমাকে বাঁচাতে দেশ ও দেশের বাহিরের সামর্থ্যবান ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন। এলাকাবাসী গোলাপ উদ্দিন, আব্দুল মোতালেব, মমিনুল ইসলাম ও জায়দা বেগম সহ আরও অনেকে বলেন, লিমা অনেক অসুস্থ হয়েছে। লিমাকে বাঁচতে অনেক টাকার প্রয়োজন। লিমার বাবা দিনমজুর হওয়ার এত টাকা তার নেই। সবাইকে লিমার পাশে দাঁড়াতে এলাকাবাসী অনুরোধ করেন।

লিমার বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, আমার সহায় সম্বল বলে তেমন কিছু নেই। যেটুকু ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। দু’টো কিডনি প্রতিস্থাপন করতে ১২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এত টাকা আমি কোথায় পাবো। চিকিৎসক বলেছেন কিডনি প্রতিস্থাপন করলে লিমাকে বাঁচানো সম্ভব। দেশবাসী ও প্রবাসীদের নিকট আমার আবেদন আমার মেয়ে লিমাকে বাঁচাতে সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন।

তবকপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বজলুর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থী লিমা আক্তারের দু’টো কিডনি বিকল হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। লিমার চিকিৎসার খরচ বহন করা বাবা দিনমজুর আব্দুল লতিফের পক্ষে সম্ভব নয়।

সাদুল্যা সরকারপাড়া মোস্তফাবিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মোস্তার আহমেদ জানান, লিমা আক্তার এবছর আলিম পরিক্ষার্থী ছিল। তার দু’টো কিডনি বিকল হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারেনি।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়