নাগরপুরে মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি: প্রতিষ্ঠা থেকে নির্বাচন—কেমন চলছে কার্যক্রম, কী বলছে বাস্তবতা?
মনিরুল ইসলাম,নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় ৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ‘নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি’। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ পথচলার পর সমিতির বর্তমান কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব এবং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষক মহলে চলছে নানা আলোচনা ও প্রত্যাশা।
নাগরপুর সরকারি কলেজ সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে নিজস্ব ২ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত ভবনে সমিতির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট একটি অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে সংগঠনটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ৩ মাস নির্ধারিত। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শহীদ শামসুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কেতাব আলী।
অন্যদিকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. কোহিনূর হোসেন, সদস্য সচিব, নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এবং সহকারী শিক্ষক, বেকড়া বিশেস্বর চক্রবর্তী উচ্চ বিদ্যালয়।
সমিতির ৪৬০ জন সদস্যের কাছ থেকে মাসিক ২০০ টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়। এই অর্থ দিয়েই সংগঠনের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তবে সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য—শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, সমন্বয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন—কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষক মহলে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকের মতে, সমিতির কার্যক্রম মূলত শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ পরিসরেই সীমাবদ্ধ, যেখানে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে কম।
উপজেলায় শিক্ষক সংকট, অনিয়মিত পাঠদান, কোচিং নির্ভরতা এবং অভিভাবকদের তদারকির অভাব শিক্ষার মানে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এই বাস্তবতায় শিক্ষক সমিতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ও প্রত্যাশা দুই-ই রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী মহাসচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,“শিক্ষক সমিতি ঐক্য, পেশাগত উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রমের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিবর্তন আনতে হলে এর কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।”
মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শওকত আলী বলেন,“শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হলেও শিক্ষার মানোন্নয়নে এর কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হওয়া দরকার।”
নয়ানখান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুর রউফ বলেন,“শিক্ষক সমিতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর হওয়া জরুরি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাদির আহমেদ বলেন,“শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সমিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। শিক্ষকদের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শিক্ষক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২৩ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪৬০ জন ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটার ১৪টি পদে একজন করে ভোট দিতে পারবেন, ফলে নির্বাচনটি বহু পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে।
শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন নাগরপুর মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শওকত আলী এবং নয়ানখান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুর রউফ।
এছাড়াও বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন ঘিরে উপজেলার ৪১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি শুধু একটি শিক্ষক সংগঠন নয়, এটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দীর্ঘদিন অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালনার পর আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিয়ে শিক্ষক মহলে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।