,

শিরোনাম

এবার ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের ‘মিথ্যাচার’ ফাঁস করলেন মার্কিন সেনারা

সংবাদের আলো ডেস্ক: গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ইরানের একটি ড্রোন হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, একটি ইরানি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তিনি দাবি করেন, যে ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস সেন্টারে ড্রোনটি আঘাত হানে, সেটি ‘সুরক্ষিত’ ছিল।

তবে সেই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০৩তম সাসটেইনমেন্ট কমান্ডের সদস্যদের ভাষ্য, স্থাপনাটি মোটেই সুরক্ষিত ছিল না। ইরানের ড্রোন সেখানে সরাসরি আঘাত হানে।

একজন আহত সেনা সদস্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ‘একটি ড্রোন কোনোভাবে ঢুকে পড়েছিল, এমন চিত্র তুলে ধরা সত্য নয়। আমি চাই মানুষ জানুক, আমাদের ইউনিট নিজেদের রক্ষার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এটি কোনও সুরক্ষিত অবস্থান ছিল না।’

আরেকজন সেনা সদস্য জানান, তাদের ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। সেনাবাহিনীর লজিস্টিক ইউনিটকে এমন একটি ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়, যা ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে ছিল।

১ মার্চ সকালে সেনা সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয় নিলেও হামলার ঠিক আগে ‘সবকিছু স্বাভাবিক’ সংকেত দেয়া হয়। ওই সংকেতের ৩০ মিনিট পরই ইরানের ড্রোনটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। একজন সেনা সদস্য বলেন, ‘সবকিছু কেঁপে উঠেছিল। এটি যেন সিনেমায় দেখা দৃশ্যের মতো। কানে শব্দ হচ্ছিল, চারদিকে ধুলো আর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল।’

এমনকি হামলার পর উদ্ধার কার্যক্রমেও ঘাটতি ছিল বলে উল্লেখ করেন কয়েকজন সেনা সদস্য। আহত সেনারাই নিজেদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং বেসামরিক যানবাহন ব্যবহার করে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

অথচ, প্রতিরক্ষা দপ্তরের সহকারী সচিব শন পারনেল সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমাদের সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে রয়টার্সকে এক কর্মকর্তা জানান, সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না তা স্পষ্ট নয়, তবে ড্রোনটি ঘাঁটির দিকে আসার সময় কোনও সতর্ক সংকেত বাজেনি।

মার্কিন সেনাদের এসব বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের অবস্থা এবং যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যেসব তথ্য দিয়েছে, সেসব তথ্য অধিকতর যাচাইয়ের দাবি উঠছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়