,

শিরোনাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজের ৩ দিন পর ঝোপে মিলল শিশুর মরদেহ

সংবাদের আলো ডেস্ক: ‘মাংস নিয়ে এসো, খিচুড়ি রান্না করে খাব’—মায়ের এমন কথায় নানাবাড়ি থেকে গরুর মাংসের পোটলা হাতে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল সাত বছরের শিশু মিম আক্তার। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানো হলো না তার। নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের ঝোপঝাড় থেকে মিলল ছোট্ট মিমের নিথর দেহ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের তিন দিন পর মিম আক্তার (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের বড়বাড়ি এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত মিম বিদ্যাকুট গ্রামের বড়বাড়ির মো. মিজান মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে নানাবাড়িতে বেড়াতে যায় মিম। এ সময় তার মা ফোন করে নানিকে বাড়িতে থাকা গরুর মাংস নিয়ে মিমকে সঙ্গে করে আসতে বলেন। খিচুড়ি রান্না করে সবাই মিলে খাওয়ার কথা ছিল।

মায়ের কথামতো নানাবাড়ি থেকে গরুর মাংস নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয় মিম। পরে তার মা বাড়িতে পৌঁছে মেয়ের কথা জানতে চাইলে নানি জানান, মিম তো মাংসের পোটলা নিয়ে আগেই বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে গেছে।

স্বজনরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, আশপাশের এলাকা ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। মাইকিং করেও সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি শিশুটিকে। পরে নবীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

তিন দিন পর সোমবার বিকেলে বাড়ির কাছের পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড় থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সেখানে গিয়ে মিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ই-পেপার সাবস্ক্রাইব করুন

মিমের নানি জানান, মাংস নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকেই মিম নিখোঁজ ছিল। সোমবার বিকালে ঝোপঝাড়ের দিক থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি মিমের মরদেহ দেখতে পান।

এ ঘটনায় মিমের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। কীভাবে ছোট্ট মিম নিখোঁজ হলো এবং কীভাবে তার মরদেহ বাড়ির পাশের ঝোপঝাড়ে গেল—এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিবারের দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের শনাক্ত করা হোক।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়