আলফাডাঙ্গায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ: চাচার মামলায় ভাতিজার পরিবারে অবরুদ্ধ জীবন, টয়লেট-রান্নাঘর নির্মাণেও বাধা
আলমগীর কবির, (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে বসতভিটা নির্মাণ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে একটি পরিবার। বৈধ কাগজপত্র ও নিজ নামে জমি রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও আপন চাচার করা মামলায় আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন নিজেদের ভিটাবাড়িতেই অবরুদ্ধ। এমনকি একটি টয়লেট বা রান্নার ঘর পর্যন্ত নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার ৬৭ নম্বর মিঠাপুর মৌজার ৫৬ শতাংশ জমির মূল দাতা ছিলেন জয়নাল ফকির। তিনি পূর্ব দিকের ২৮ শতাংশ জমি জাকির ও কামালের কাছে এবং বাকি পশ্চিম দিকের ২৮ শতাংশ জমি অপর শরিক মান্নান ফকির ওরফে আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে জাকির ও কামালের অংশ এবং মান্নান ফকিরের অংশ থেকে মোট ৪০ শতাংশ জমি কিনে নেন ভুক্তভোগীর চাচা হান্নান ফকির।
ভুক্তভোগী মিনহাজুল মিঠুর পরিবারের দাবি, মান্নান ফকিরের কাছ থেকে কেনা জমির মূল দলিলের চৌহদ্দি ও সীমানা চতুরতার সঙ্গে পরিবর্তন করে তাদের হয়রানি করছেন হান্নান ফকির। মিনহাজুল মিঠু ও তার পরিবার বিএস ৬৭৭ নম্বর খতিয়ানের ২৬৮৭ নম্বর দাগের ১৬ শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে বসবাস করে আসছেন।
অভিযোগে আরও প্রকাশ, গত ২ জুন ও ২২ জুলাই প্রতিপক্ষরা তাদের বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরবর্তীতে সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচা হান্নান ফকির আদালতে মামলা করলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
ভুক্তভোগী মিনহাজুল মিঠু ও তার স্ত্রী আফসানা বেগম জানান, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলার কারণে তারা অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন। রান্নার জায়গা বা টয়লেট নির্মাণের ক্ষেত্রেও আদালতের স্থগিতাদেশের অজুহাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত হান্নান ফকির তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি তার পৈতৃক সম্পত্তি এবং তিনি কাউকে হয়রানি করছেন না।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কাজী নেওয়াজ জানান, আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ যথাসময়ে সরজমিনে জারি করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবারটি এই দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের সুরাহা পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।