বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নানা বাঁধা পেরিয়ে এগিয়ে চলা দুর্গাপুরের সংগ্রামী নারী কবিতা দত্ত

রাজশ গৌড়, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: একজন সংগ্রামী নারীর নাম কবিতা দত্ত (৫১)। যিনি গত ১৮ বছর ধরে এক হাতে দোকান, অন্য হাতে সংসার সামলে লড়াই করে যাচ্ছেন। নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের শিবগঞ্জ বাজারে ২০০১ সালে ‘মেসার্স দত্ত ট্রেডার্স’ নামে ব্যবসা শুরু করেন তার স্বামী গোবিন্দ দত্ত। কিন্তু ২০০৮ সালে হঠাৎ হৃদরোগে তার মৃত্যু হলে পরিবারে নেমে আসে অন্ধকার।সংসারের হাল ধরার মতো কেউ না থাকায় তিন সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন কবিতা দত্ত। পরিবারের নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তখন থেকেই দোকান ও সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।

কবিতা দত্ত বলেন, স্বামীর মৃত্যুর সময় বড় মেয়ের বয়স ছিল ১০ বছর, ছেলের ৬ আর ছোট মেয়ের মাত্র আড়াই বছর। তখন পরিবারের সব বাধাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। তাদের সেই বাধাই আমাকে আরও শক্ত করে তুলেছিল। ভবিষ্যতের কথা ভেবেই পথচলা শুরু করি। আজ আমি সফল। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, ছেলে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। ছোট মেয়ে এখনও পড়াশোনা করছে।

তিনি আরও বলেন, শুরুতে দোকান সামলানো ছিল আমার কাছে ভয়ের। স্বজনদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে নানা কটু কথা, পেতে হয়েছে বাধাও। কিন্তু লড়াই করা আর সন্তানদের ভবিষ্যতের চিন্তা করেই নিজেকে শক্ত করে তুলি।

কবিতা দত্ত বলেন, এখন প্রতিদিন সকাল ৫টায় ঘুম থেকে উঠি। রান্না-বান্না শেষ করে সাড়ে আটটার দিকে দোকান খুলে বসি। বেচাকেনা, হিসাব সবকিছুই প্রায় একাই সামলাই। আমাকে সহযোগিতা করার জন্য একজন দাদা আছেন, তারপরও কখনো কখনো নিজেকেই কাজে হাত লাগাতে হয়। এসবের ফাঁকে আবার বাসায় গিয়ে ঘরের কাজও করি।

কবিতা দত্তের ছোট মেয়ে জয়াবতী দত্ত বলেন, ছোটবেলায় আমার বাবা মারা যান। তারপর থেকেই আমাদের পরিবারের সব দায়িত্ব আমার মায়ের ওপর। বাবার আদর আর মায়ের ভালোবাসা দুটোই আমরা মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী খান সুমন বলেন, আমরা দেখেছি গোবিন্দ দাদার মৃত্যুর পর কবিতা দিদি খুব কষ্ট করে দোকান পরিচালনা করছিলো। আমরা যারা বাজারের ব্যবসায়ী সব সময় উনার পাশে থেকে সব রকম সহযোগীতা করেছি  । আজ তিনি বাজারের সফল দশ ব্যবসায়ীর একজন৷

ক্রেতা, বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছেও কবিতা দত্ত এখন এক গর্বের নাম। তার সাহস ও সংগ্রামের গল্পে প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়