মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের অগ্রাধিকার
সংবাদের আলো ডেস্ক: নানাবিধ চাপে অস্বস্তিতে আছে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ সময় ধরে আয়ের তুলনায় বেশি হচ্ছে ব্যয়। খাদ্যপণ্য কিংবা সেবা— সব ক্ষেত্রেই অসহনীয় ব্যয়ের চাপ।
এর মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংকটে থাকা আর্থিক খাত টেনে তুলতে কয়েকটি ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে অগ্রাধিকার। আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে চায় অর্থবিভাগ। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে সরকারের অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম। পুঁজিবাজার সক্রিয় করতেও নির্দেশনা নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেছেন, অতীতে যতগুলো অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল সবগুলোই কিন্তু ভঙ্গুর দশায় চলে গেছে। কাজেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা, এগুলোকে চালু করা এবং এগুলো যাতে তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারে, এটাই মূল বিষয়।
এদিকে, ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করতে শুরু থেকেই কাজ শুরু করতে চায় সরকার। বিলুপ্ত হবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বা এফআইডি। বাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ আয় বৃদ্ধি করার বিকল্প নেই। সুষ্ঠু পরিকল্পনা করলে কর-জিডিপির অনুপাত দ্বিগুণ করা সম্ভব। বাজেটে অগ্রাধিকার খাতগুলো নিরুপণ করা হচ্ছে। গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থায়নের দিক।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর আবু ইউসুফ বলেছেন, যতটুকু দেখলাম, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনতা দিতে চাচ্ছে সরকার, এটি আসলে খুবই জরুরি। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও এখন যা আছে, সেটা দ্বিগুণ করার কোনো বিকল্প নাই।
ব্যবসা সহজীকরণ, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি কীভাবে শুরু করা যায়, তা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়, এমন সব বিষয় নিয়ে করা হবে পর্যালোচনা।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, যারা ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়েছে, তাদের আবার ১৫-১৬ শতাংশে ফেরত দিতে হয়েছে; হ্যাঁ, এখন সেটা কমে আসছে। কিন্তু এই গ্যাপটা কেন হয়েছে? সুশাসনের অভাবের জন্য, মানুষ টাকা লুটপাট করে অর্থপাচার করে নিয়ে চলে গেছে। সেটার দায়ভার আমি কেন নিবো?
বিশাল ঋণদায় কীভাবে মেটানো যাবে, তা নিয়েও সরকারের আছে দুশ্চিন্তা। নতুন সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে অর্থবিভাগ।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।