প্রশাসনের নানা পদক্ষেপেও স্বস্তি নেই, মুকুন্দগাঁতিতে তীব্র যানজট
উজ্জ্বল অধিকারী: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র মুকুন্দগাঁতি বাজার। তাঁতশিল্পসমৃদ্ধ এ বাজারটি প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকলেও যানজট এখন স্থানীয়দের নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন, পৌরসভা ও পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থায়ীভাবে এ সমস্যা নিরসন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকুন্দগাঁতি বাজারে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কেনাকাটা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে আসেন। ফলে ব্যস্ত এ বাজারের প্রধান সড়কে যানবাহনের চাপও থাকে বেশি। এর সঙ্গে সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং এবং নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থার অভাবে যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, যানজট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও এসব উদ্যোগের সুফল স্থায়ী হচ্ছে না।অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই সড়কের দুই পাশে আবারও দোকানপাট ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা বসে যায়। পাশাপাশি যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, ব্যবসায়ী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। যানজটে আটকে পড়ছে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনও। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধীরগতিতে চলতে হয় যানবাহনকে।
সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ড, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, “মুকুন্দগাঁতি বাজার ও আশপাশের এলাকায় যানজট নিরসনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যানজট নিয়ন্ত্রণে একজন ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পৌরসভার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি সিএনজি স্ট্যান্ড নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যানজট পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ যানবাহন চালকদের অসচেতনতা এবং যত্রতত্র পার্কিং।
তবে যানজট স্থায়ীভাবে নিরসনে পৌরসভার পক্ষ থেকে সড়কের পাশের অংশ প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের চলমান উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে মুকুন্দগাঁতি বাজারের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং স্বস্তি ফিরবে সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।