ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্ববাজারে আরও কমল তেলের দাম
সংবাদের আলো ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি কমেছে। চুক্তির মাধ্যমে ইরান যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৪ ডলার বা ২.০৬ শতাংশ কমে ৭৭.৯১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ১.৮০ ডলার বা ২.৩৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৪.৯৯ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তারা ভালো আচরণ না করলে তিনি আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে পারেন। তার এই বক্তব্যের পর তেলের দাম কিছুটা বেড়েছিল। তবে, পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন চুক্তির খবর প্রকাশ হলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তেলের দাম আবার কমতে শুরু করে।
১৪ দফার সমঝোতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোলমুক্ত জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলো এই প্রাথমিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে, বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও তেলের দাম খুব বেশি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু হয়, তাহলে বর্তমান সরবরাহ সংকট ২০২৭ সালে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।