চাঁনখারপুলের মেস থেকে জগন্নাথ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
সংবাদের আলো ডেস্ক: ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই অনিক চন্দ্র পাল সম্প্রতি ‘হতাশায় ভুগছিলেন’ বলে ভাষ্য সতীর্থ ও পুলিশের।
বংশাল থানার ওসি আশিক ইকবাল বলেন, “ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে ছেলেটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে জানা গেছে।
“দীর্ঘদিন হতাশায় ভুগছিল বলেও আমরা জানতে পেরেছি। সেজন্য আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে চাঁনখারপুল এলাকার বি কে গাঙ্গুলি লেইনের একটি ভবনের চার তলার মেস থেকে অনিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অনিকের মেসমেট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া বলেন, অনিক বেশ কিছুদিন ধরে ‘হতাশায় ভুগছিলেন’। পারিবারিক ও আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি আরও চুপচাপ হয়ে পড়েছিলেন।
“বিচ্ছেদের পর অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর থেকেই তিনি মেসে একা চুপচাপ থাকতেন।”
ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী পায়েল দাস বলেন, “অনিক চুপচাপ স্বভাবের ছিল। প্রায় সময়ই কানে হেডফোন লাগিয়ে দীর্ঘ সময় নিজের মত রুমের মধ্যে থাকত।
“মেসমেটরা দুপুরে নক করে ওর সাড়া না পেয়ে সেটি স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছিল। আর ওর রুমমেটও বাসায় ছিল না, সে ভারতে গেছে।”
তার ভাষ্য, রাতে অনিককে ফোনে না পেয়ে তার বান্ধবী মেসমেটদের জানায়। তখন দীর্ঘক্ষণ দরজায় নক করেও সাড়া না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে জানালা ভেঙে ঘরের ভেতর তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
অনিকের লাশ উদ্ধারের বর্ণনায় মেসমেট জয় বলেন, সোমবার থেকেই অনিকের তেমন কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।
“মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট আমাকে ফোন করে জানায়, তাকে কল করেও পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আমি আরেক বন্ধুকে নিয়ে অনিকের কক্ষে যাই। অনেকক্ষণ দরজায় কড়া নাড়লেও কোনো সাড়া পাইনি।”
তিনি বলেন, “দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখি। এরপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে কয়েকজন বন্ধু মিলে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।’’
ওসি আশিক ইকবাল বলেন, “মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। নিহতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে লিখিত আবেদন করলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।”
২১ বছর বয়সি অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুরে। তার পরিবার সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবাস পাল।
তিনি বলেন, “নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।”



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।