,

শিরোনাম

আ.লীগ আমলে ২৫০ জন গুম-খুনের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর

সংবাদের আলো ডেস্ক: গুমের অভিযোগ তদন্ত দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল প্রক্রিয়া। প্রতিটি পরিবার এবং ঘটনার তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুনের শিকার হয়ে এখনও নিখোঁজ থাকা প্রায় ২৫০ জনের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। 

গতকাল মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গনে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

 এসময় তিনি বলেন, নিখোঁজ এসব ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপহরণ করেছিলেন বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং ঘটনাগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিন চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে বৈঠক করেন গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা গুমের অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে রেখে নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান এবং মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। 

পরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২৫০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে এবং এখনও ওই ব্যক্তিদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন। প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে। কোথা থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেসব স্থানও আমরা চিহ্নিত করেছি।

গুমের তদন্ত একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া উল্লেক করে তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবার এবং ঘটনার তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এজন্য সময় লাগলেও নির্ভুল তদন্ত নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। যেসব ব্যক্তির এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি, তাদের পরিবারের অভিযোগকে চলমান অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গুমের ঘটনাগুলোকে আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। ভুক্তভোগীদের পরিচয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে আমরা তদন্ত করছি না। অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখা হবে।

গুম সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বর্তমানে গুম সংক্রান্ত ৩টি মামলার বিচার চলছে এবং সেগুলো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। এসব মামলায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী রয়েছেন। তবে শুধু নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের ভুক্তভোগীদের নয়, বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীসহ অন্যদের গুমের ঘটনাও একই গুরুত্বে বিচার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এখানে জামায়াত, বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দলের অনুসারী—এভাবে আলাদা করে দেখা হচ্ছে না। মুসলিম বা হিন্দু, যে পরিবারের সদস্যই গুমের শিকার হয়ে থাকুন না কেন, আমরা কোনো ধরনের বৈষম্য করছি না। প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করাই আমাদের লক্ষ্য। 

তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করতে গুমের মামলাগুলোর জন্য একটি বড় তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আগে একজন তদন্ত কর্মকর্তা কাজ করলেও এখন আরও চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই দল প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আমিনুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই এসব মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। গুমের শিকার পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়