বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

পদ্মার ভাঙনে দিশেহারা ভেড়ামারার মানুষ

এস এম বাবুল আক্তার, ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে  বেশ কয়েক জায়গাতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।বিগত ৪ দিনের  ভাঙ্গনে উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়েজুল্লাপুর,  হাটখোলাপাড়া এবং বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি ও মাধবপুরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিসহ হিন্দুদের ব্যবহৃত শ্মশাঘাটও নদীগর্ভে  বিলীন হয়েছে।এতে ৮০-৯০ জন পান চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের ৩০০০ পিলি(পান বরজের সারি) পান বরজ নদীতে ভেঙে গেছে।

গত ৭ই সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর, হাটখোলাপাড়া ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি ও মাধবপুরে বিগত ৪ দিন ধরে পদ্মা নদীতে চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ভাঙ্গন কবলিত স্থান  থেকে পদ্মা নদী রক্ষা রায়টা-মহিষকুন্ডি বেরিবাঁধের দূরত্ব ৫০ মিটারেরও কম। হুমকিতে রয়েছে বসতবাড়িসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে এই অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষের। তাদের দাবি, যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় রকমের বিপর্যয়। অপরদিকে মাধবপুরের ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় রয়েছে বিস্তীর্ণ প্রান্তিক চাষিদের পান বরজ।গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে ৮০-৯০ জন পান চাষির  প্রায় ৩০০০ পিলি পান বরজ নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত একমাত্র শ্মশান ঘাটটিও নদীতে হারিয়ে গেছে।

আমিরুল আলি নামের এক কৃষক জানান,তার ভাই আরজেত আলি ও তার পুত্রদের  ৭/৮ বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখানে প্রায় ৮০০ পিলি পানের বরজ ছিল। একমাত্র উপার্জনের জায়গা হারিয়ে তারা এখন পথের ফকির।

মবির পন্ডিত,রেজাউল, জামশেদ, রাব্বি, রহমান, কাশেম, নুরা,নাসির, আনেজ,আজগর,আবু,শিহাব এরা সকলেই ১০০ পিলি করে পানের বরজ হারিয়েছেন।

পানচাষি  আবুল হোসেন বলেন,মাধবপুর এলাকায় গত দুই বছর আগে এই সমস্ত বরজ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।এবার আবার পদ্মা নদী গিলে নিল। আমরা কৃষকরা খুবই অসহায়।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন,বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ভাঙ্গনের বিষয়টি আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানলাম।শীঘ্রই সেখানে পরিদর্শন করব। আর বসতবাড়ি থাকার কারণে জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুরে নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে কাজ শুরু হবে।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীতে ভাঙ্গনের বিষয়টি আমরা জেনেছি।ক্ষতিগ্রস্ত পান চাষিদের আবেদনের ভিত্তিতে  ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়