নাগরপুরে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাদকসেবীর আড্ডা, সেবায় স্থবিরতা
মনিরুল ইসলাম, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়ন (কাঁচপাই মোড়) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ঔষুধ ও জনবল সংকটের পাশাপাশি মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে নাজুক হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিবেশ। চিকিৎসাকর্মীদের অনুপস্থিতি ও অপর্যাপ্ত সেবার কারণে রোগীরা প্রায়ই হতাশ হয়ে ফিরছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাউন্ডারির ভিতরে মাদকসেবীরা নিয়মিত আড্ডা বসায়। কেন্দ্রের পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে আশেপাশের মানুষ এবং বাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা ফেলে। ঘরটি মলমূত্রত্যাগের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় গোটা এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
মেইন গেটের অবস্থা ভগ্নদশাগ্রস্ত, জানালার কাঁচ ভাঙা এবং ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোয়ার্টারগুলো সবসময় তালাবদ্ধ রয়েছে। ভবনের সিঁড়িতে ময়লার স্তুপ, ছাদে পানি পড়া ও শ্যাওলা জমে থাকা—সব মিলিয়ে পুরো স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া পরিবার পরিকল্পনার জন্য নির্ধারিত একটি স্বাস্থ্যকক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কক্ষটি নোংরা ও আবর্জনায় ভর্তি, ছত্রাক ও জারা ধরেছে—যা রোগীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ঔষুধ সংকটের কারণে রোগীদের অধিকাংশকে নিজ খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। উপস্থিত জনবলের অভাবও চিকিৎসাসেবায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনবল সংকটের প্রভাব ও স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ ধুবড়িয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা মূলত দুই কর্মকর্তা—এস এ সিএমও রত্না কর্মকার ও ফার্মাসিস্ট সুভাষ বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে এস এ সিএমও রত্না কর্মকারকে সপ্তাহে তিন দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মী উপস্থিত থাকে না। এর ফলে রোগীদের সেবা প্রাপ্তিতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
এস এ সিএমও রত্না কর্মকার বলেন,“আমরা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করছি। জনবল ও ঔষধের স্বল্পতা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।”
ফার্মাসিস্ট সুভাষ বিশ্বাস বলেন,“ঔষধের সরবরাহ বাড়ানো ও রোগীদের দ্রুত সেবা দিতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি, তবে জনবল কম থাকায় কিছু সময় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।”
চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন,”আমরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসি, কিন্তু ঠিকমতো ঔষুধ পাই না। শুধু নাপা, স্যালাইন আর প্যারাসিটামল দিয়েই জানানো হয়—‘ঔষুধ নাই’। এতে চিকিৎসা খুবই অপ্রতুল এবং অসুবিধাজনক হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেলের পর স্বাস্থ্য কেন্দ্র এলাকায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকা তাদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়, যা নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,”চিকিৎসাকর্মীরা চলে যাওয়ার পর মাদকসেবীরা এখানে আড্ডা বসায়। এ কারণে আমরা বিকেল পর হাসপাতালে যেতে এড়াই।”
ধুবড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান খান (শাকিল) বলেন,”আমরা জানি সন্ধ্যার পর স্বাস্থ্যসেবা থাকে না। মাদকসেবীদের আড্ডা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিবেশ উন্নত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো. হাফিজুর রহমান বলেন,”২০২৪-২৫ অর্থবছরের জরুরি মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রাক্কলনসহ প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মাদকসেবীদের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিটিং হবে। আশা করছি শিগগিরই সমস্যাগুলো সমাধান করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে।”
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধ ও মাদক নির্মূলে তাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং এ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।