রবিবার, ৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

নাগরপুর-শাহজানী গয়হাটা সড়কে কাজ না করে দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উধাও, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মনিরুল ইসলাম, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর-শাহজানী গয়হাটা ভায়া সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ার পর মাত্র কয়েকদিন কাজ করার পরই দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান — মেসার্স কৃষ্ণা স্টুডিও (স্মারক নং: ৪৬.০২.৯৩০০.০০০.১৪.৬৯৯.২৪-৬৫১৩) ও এম/এস নাইস ট্রেডার্স (স্মারক নং:

৪৬.০২.৯৩০০.০০০.১৪.৭৪৭.২৪-৬৫১৪) — সাইট ছেড়ে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্ষার কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খাঁজ-গর্তে পানি জমে রয়েছে, যার কারণে যান চলাচল বন্ধের উপক্রম। রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা কাঁদা জল পেরিয়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ স্কুল থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া, রোগী-পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যাতায়াত ও জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছানো এক দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বয়স্ক বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন,

“বাজারে যাওয়ার জন্য কাঁদা-পানির মধ্যে পা ভিজিয়ে চলতে হয়। বয়স বেশী, পড়ে গেলে উঠে দাঁড়ানো কঠিন।”

ব্যবসায়ী আলিম মিয়া জানান,“পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাক-ভ্যান গর্তে আটকে পড়ছে, ফলে সময়মতো পণ্য পৌঁছাতে পারছি না, ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

প্রকল্প ও ঠিকাদারির তথ্য: ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে দুইটি কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

মেসার্স কৃষ্ণা স্টুডিও — সড়কের ৪৫০০ মিটার থেকে ৮৬৮৫ মিটার (৪.১৮৫ কিমি) অংশের কাজ (স্মারক নং: ৪৬.০২.৯৩০০.০০০.১৪.৬৯৯.২৪-৬৫১৩) এম/এস নাইস ট্রেডার্স — ০ থেকে ৪৫০০ মিটার (৪.৫ কিমি) অংশের কাজ (স্মারক নং: ৪৬.০২.৯৩০০.০০০.১৪.৭৪৭.২৪-৬৫১৪)

দুই প্রতিষ্ঠানের মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কাজ শুরু হয় ২ অক্টোবর ২০২৪ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ এপ্রিল ২০২৫। কিন্তু ঠিকাদাররা কাজের অগ্রগতি না রেখে সাইট ত্যাগ করেছেন।

এলজিইডি প্রকৌশলী মো. তোরাপ আলী বলেন, “আমরা দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছি, কিন্তু তারা কাজে ফেরেনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত মোহাম্মদ নোমান জানান,“এ বিষয়ে আগে অবগত ছিলাম না। এলজিইডির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরেজমিন পরিস্থিতি দেখে স্পষ্ট যে, সড়কের বর্তমান বেহাল দশা এলাকাবাসীর জন্য চরম সমস্যা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রায় বিরাট প্রভাব পড়েছে। জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত সড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়