ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী
সংবাদের আলো ডেস্ক: আসছে জুলাইয়ে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একলাখ শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি উপজেলায় দুটি করে স্কুলে এই উপকরণ দেওয়া হবে। পর্যায়েক্রমে এটি আরও বৃদ্ধি করা হবে।
আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে ড্রেস ও ব্যাগের ডিজাইন চূড়ান্ত করেছি এবং একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি। আগামী জুলাই মাসে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা প্রদানের কমিটমেন্ট পেয়েছি বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রতি উপজেলায় ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এসব উপকরণ পাবে। পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি বেসরকারি বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা পর্যায়ে নিতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নেয়া হবে। সরকারের এ উদ্যোগের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে এসেছেন। আগামী দিনেও তারা এই সহযোগিতা করবেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির আওতায় অনেক উদ্যোক্তা ইতোমধ্যেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরে এটি পাইলট আকারে শুরু হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে বড় আকারে শুরু হবে। ক্রমেই প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে ছেলে শিক্ষার্থীরা এক কালারের ব্যাগ, জামা ও জুতা পাবে। একইসঙ্গে সব মেয়েরা পাবে একই ধরনের জামা, জুতা ও ব্যাগ। এর কোনো ব্যতয় হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পড়াশোনা করেন, বিনামূল্যে বই পান, মিড ডে মিল পান, এখন থেকে শিক্ষার্থীরা জামা, জুতা, পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ পাবে। অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পেছনে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না। আমরা একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলতে চাই—সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য একই ডিজাইন ও একই রঙের ড্রেস, একই ধরনের ব্যাগ এবং একই ধরনের জুতা প্রদান করা হবে। এতে সমতা ও শৃঙ্খলার একটি সুন্দর বার্তা প্রতিষ্ঠিত হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একটি অসহায় পরিবারের শিশুর জন্য শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো আর্থিক বাধা থাকবে না। বই, খাবার, পোশাক—সবকিছুই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে। এটি শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের সংবিধান প্রদত্ত শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।