বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

অফিস পেয়ে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, বিরোধীদলীয় নেতা বললেন— ছোটদেরকে ‘না’ বলতে নেই

সংবাদের আলো ডেস্ক: দেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ফ্লোর নিয়ে এমপিদের এই সুখবর দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পরিষদের নতুন বা পুরাতন ভবনে যেখানে যে অবস্থা আছে, সেখানেই এটাচ বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে এমপিরা তাদের প্রয়োজনীয় দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

এরপর স্পিকার থেকে ফ্লোর নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) সরকারকে ধন্যবাদ দেন। এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে বলেন, আমি সবসময় বিরোধিতার জন্য দাঁড়াই, আজকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিরোধী শিবির থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, অন্তত বসার একটি জায়গা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না, এই সংসদের দ্বিতীয় কম বয়সী হিসেবে একটা কথা বলছি, ইউএনও-উপজেলা চেয়ারম্যানের একটি গাড়ি থাকে। আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়। আমরা লজ্জায় এটা কোথাও বলতে পারি না। আমাদেরকে এখন বসার ব্যবস্থা করে দিছে, এখন যদি মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়।

এরপর স্পিকারের কাছে ফ্লোর চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দাঁড়িয়ে বলেন, এমপিদের প্রাপ্তির দিনে অপ্রাপ্তির খবরটা বলতে চাচ্ছিলাম না। প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, আমাদের সংসদীয় বৈঠকের শুরুতেই দুইটি অনুশাসন দিয়েছেন। আমরা এমপিরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবো না।

এজন্য একটি আইনের সংশোধনী আনার কথা জানান তিনি, যেখানে থাকবে এই সংসদের কেউ করমুক্ত গাড়ি নেবেন না।

এরপর সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, তবে কেবল এমপি নয়; মন্ত্রী, সরকারের কর্মকর্তাসহ যারা গাড়ি-তেল পায়, এই সংকটের সময় তাদেরকে তেলের বরাদ্ধ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের আপাতত যেসব ঋণ সুবিধা আছে, সেগুলোও এ সময়ের জন্য বাদ দেওয়া হয়েছে। আমরা এসব বিষয়ে এখন জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী। তবে, সংসদ সদস্য্য অফিস পেয়েছেন, গাড়ি না পেলে অখুশি হবেন। সেজন্য সরকারি ও বিরোধী দল এ নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে বলেন, আমিও আজকে ধন্যবাদ দিতে দাঁড়ালাম। কার,ণ বিরোধী দলের একজন্য সদস্য দাবিটা সামনে এনেছিলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে আলোচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় আমি ধন্যবাদ জানাই। তবে একটা কথা আছে, ছোটদেরকে কখনো ‘না’ বলতে নেই। তাদের আবদারে সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলে ফেলেছে, সাথে সাথে ‘না’ ‘না’ বললে আমি বেশি খুশি হতাম। আমি চিন্তা করেছিলাম যে এত বড় খবরের পর বিরোধী দল থেকে মিষ্টি খাওয়ায়ে দিবো। কিন্তু এখানে এসে বাধাগ্রস্ত হয়ে গেলাম। পারলাম না। একটা ধাক্কা খেলাম।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়