বৃহস্পতিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

কুমিল্লায় বাস-ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ১২

সংবাদের আলো ডেস্ক: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় রেলক্রসিংয়ে বাস–ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুইজন শিশু রয়েছে। বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ৩ টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার ফ্লাইওভারের নিচে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা ও চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘মামুন এক্সপ্রেস’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগতির চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি ইঞ্জিনের সামনে আটকে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপসহ রেলক্রসিং থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের ময়নামতি রেল স্টেশন এলাকা পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। 

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিস, সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানায় তারা। ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক জনি বড়ুয়া বলেন, রাতে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্ঘটনাস্থলে সদর দক্ষিণ থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রমই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। বাসটি ট্রেনের সঙ্গে আটকে ময়নামতি স্টেশন পর্যন্ত চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। পুরো উদ্ধার অভিযান শেষ হলে হতাহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করে জানানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, যাত্রীবাহী মামুন পরিবহনের বাসটি গাইবান্ধা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে নোয়াখালী যাচ্ছিল। রাতে বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে নিচে রেললাইন পার হওয়ার সময় চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকামুখী চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়