,

শিরোনাম

ইরান যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে হেরেছি: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

সংবাদের আলো ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। 

বুধবার (০৫ নভেম্বর) এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, আমরা যে হেরেছি, তার কারণ যুদ্ধ। প্রেসিডেন্ট নিজেই গতরাতে এ কথা বলেছেন।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে। তবে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলেই তিনি দাবি করেছেন। এএফপি বলছে, ভ্যান্সের এ বক্তব্যকে যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ নিয়ে ভ্যান্সের আপত্তি ছিল বলেও আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই পেয়েছে। এর ফলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউস এক্সে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করেছে। ওভাল অফিসের ডেস্কের পেছনে কঠোর চেহারায় ট্রাম্পকে দেখানো হয়েছে সেই ছবিতে। ছবির ওপর লেখা, ‘জনসাধারণের অবগতির জন্য: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’ পোস্টে আরও বলা হয়, ‘বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে দেখার জন্য ধন্যবাদ।’

নির্বাচনের ফলাফলকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন আইন প্রণয়ন, প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছে। তবে ট্রাম্প ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে। বুধবার এক লিখিত বার্তায় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তনে দেশটির আধিপত্যবাদী মনোভাব বদলাবে এমন আশা করা ভুল। ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করতে ছাড় দেওয়ার চিন্তাও সঠিক নয়।

গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ক্ষমতায় আসেন মোজতবা খামেনি। এরপর থেকে তিনি প্রকাশ্যে দেখা দেননি, শুধু লিখিত বার্তা দিয়েই বক্তব্য জানিয়ে আসছেন। ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নির্বাচনের ফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মার্কিন ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছেন। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেইও ট্রাম্পের সামরিক ও রাজনৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে নির্বাচনের দিনও হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ট্রাম্প বলেছেন, দ্বীপটিতে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছিল। সেটি শেষ হওয়ার আগেই হামলা করা হয়েছে। তিনি এটিকে ‘ছোটখাটো’ হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য দেয়নি।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের মধ্যাঞ্চলের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’সহ এক-দুটি লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। মঙ্গলবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেছেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত, কিন্তু যুদ্ধ শুরুর কোনো কারণ নাও থাকতে পারে।

এদিকে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর সরকার। আগে যেসব বিষয়ে আলোচনা সম্ভব ছিল না, সেগুলো নিয়েও এখন কথা বলার ক্ষমতা সরকারকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা।

মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারও আশাবাদী। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, কাতারের প্রস্তাব ও ধারণাগুলো দুই পক্ষই পর্যালোচনা করছে। চীনও বলেছে, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া ঠেকানো তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়