ধর্ষণের কোনো ছোট-বড় বা ভিন্ন ডেফিনেশন হয় না, সবই সমান অপরাধ
সংবাদের আলো ডেস্ক: জাতীয় সংসদে দুর্নীতি দমন কমিশনের বাজেট ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে ধর্ষণের বিচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে সাফ জানিয়ে বলেছেন, দুর্নীতির মতো ধর্ষণেরও কোনো ছোট কিংবা বড় ডেফিনেশন বা সংজ্ঞা আইনিভাবে হতে পারে না। ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটির বিচার চাওয়া হবে, আর অন্যটির বিচার চাওয়া হবে না এমন দ্বিচারিতা চলতে পারে না, কারণ সব ধর্ষণই সমান অপরাধ।
সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এ কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংসদ অধিবেশনে একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে আলোচনা শুরু হয়। যেখানে ঘটনার ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পর সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার স্পষ্ট বয়ান ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। এরপরেও কিছু সদস্যের বক্তব্য ও ডিবেট নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে মন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা আসলে ধর্ষণের পক্ষে কথা বলছেন নাকি বিপক্ষে কথা বলছেন, তা স্পষ্ট নয়। আইনে যেমন উচ্চ দুর্নীতি বা নিম্ন দুর্নীতি বলে আলাদা কিছু নেই, দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি; ঠিক তেমনি ধর্ষণের ক্ষেত্রেও কোনো ছোট-বড় ভেদ নেই, সব অপরাধই সমান এবং সবক্ষেত্রেই সমানভাবে বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে অধিবেশনে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্যেই আগের অধ্যাদেশটি তখন গ্রহণ করা হয়নি, তবে আগের আইনটি রিভাইভ হওয়ায় সার্চ কমিটির মাধ্যমেই দ্রুত দুদককে ফাংশনাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে সংসদে বিল আকারে এনে সবার আলোচনার ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করা হবে।
একইসঙ্গে দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কাছে পেশ করা শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকিং খাতের লুটপাট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া ঋণের টাকা দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। এই বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।