মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়: কাতার
সংবাদের আলো ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে একসময় যে ধরনের সুরক্ষাকবচ বলে মনে করা হতো, তা এখন আর কার্যকর নয় বলে জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে চালানো বারবার প্রতিশোধমূলক হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে কাতার। দেশটি আরব বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্বাগতিক দেশ, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর হিসেবেও কাজ করে।
আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আল-আনসারি জানান, ‘আমাদের উপসাগরীয় অঞ্চলে এটি উপলব্ধি করতে হবে যে, আন্তর্জাতিক বাহিনীকে রাখা বা আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত জোট থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা আর যথেষ্ট নয়।’
তিনি জানান, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠাই একমাত্র পথ। হ্যাঁ, আমাদের অংশীদার ও মিত্রদের প্রয়োজন আছে, কিন্তু নিরাপত্তার জন্য আমরা কেবল তাদের ওপর নির্ভর করতে পারি না।’
তার এই মন্তব্যের আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলের সাবেক জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক এভ্রিল হেইনস ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ফেস্টিভ্যালে জানান যে, এই অঞ্চল থেকে মার্কিন উপস্থিতি কমিয়ে ফেললে তা পুরোপুরি সম্পৃক্ত থাকার চেয়ে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সম্পদ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করায় হাজার হাজার মার্কিন সেনা ও দূতাবাস কর্মীকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
আমিরাতের দৈনিক ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আল-আনসারি স্বীকার করেন যে ইরানের সঙ্গে বিশ্বাস পুনর্গঠনে সময় লাগবে, তবে তা জরুরি কারণ ইরান সবসময়ই তাদের প্রতিবেশী হিসেবে থাকবে।
এ ছাড়া ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা নীতি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে অতীতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি এবং সমাধান কেবল আলোচনার টেবিলেই সম্ভব।
এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট হরমুজ প্রণালিকে বাইপাস করার জন্য তেল পাইপলাইন নির্মাণের কথা উল্লেখ করে একে আগামী দুই বছরে ‘মূল্যহীন’ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।
তার এই মন্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে আল-আনসারি জোর দিয়ে বলেছেন যে বিকল্প যাই তৈরি করা হোক না কেন, হরমুজ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবেই টিকে থাকবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।