শেখ হাসিনার মৃত্যু এই দেশে হবে না, কবরও হবে না : সারজিস
সংবাদের আলো ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনা ১ হাজার ৪০০ মানুষকে খুন করে ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। শেখ হাসিনার মৃত্যু এই দেশে হবে না, কবরও এই দেশে হবে না।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বরগুনা পৌরশহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন হোটেল বে-অব বেঙ্গলে এনসিপির জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি সরকার ৬ মাস পার করেছে। সেই জায়গা থেকে এখন আর কিন্তু বিএনপির এই সুযোগ নেই যে তারা মাত্র ক্ষমতায় এসেছে, শিশু সরকার এগুলো বালার। কারণ পাঁচ বছরের মধ্যে ছয়মাস পরেও যদি আপনি শিশু সরকার বলেন, তাহলে আপনি যুবক হবেন কবে? আপনি পরিপূর্ণ বৃদ্ধ বা উপযুক্ত হবেন কবে? সেই জায়গা থেকে এখন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। একইসাথে সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি যদি তাদের জায়গা থেকে সমস্যাগুলো স্বীকার করে এবং তারা যদি বলে আমাদের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন, তাহলে তাদেরকে সহযোগিতা করার মানসিকতা আমাদের সবসময় ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু তাদের অবস্থা যদি এমন হয়, আমরা সমস্যার কথা স্বীকারই করি না। আমরা বললাম, চাঁদাবাজি সবাই মিলে বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তারা স্বীকারই করে না কোথাও চাঁদাবাজি হয়। আমরা বললাম, প্রশাসনে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে, দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। তারা স্বীকারই করে না দলীয়করণ হয়। তাহলে তো সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব না।
এনসিপির এই নেতা বলেন, সারাদেশে যারা শুধু মার্কায় ভোট দিয়েছে বা শুভাকাঙ্ক্ষী কিন্তু কোনো অপরাধ করেননি, তারা চাইলে অন্যান্য দলে যেতে পারেন। বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপিতেও যেতে পারে। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা বিএনপিকে আহ্বান জানাব, তারা যাতে এই প্রশ্নে ছাড় না দেয়। যদি তারা ছাড় দেয় তাহলে তাদের জন্য এটা হিতে বিপরীত হবে। আজকে হয়ত ভোটের জন্য কিংবা প্রার্থী হিসেবে জেতার জন্য ছাড় দিচ্ছি, অভ্যন্তরীণ সমঝোতা করছে, কিন্তু আগামীতে যদি তারা শক্তিশালী হয় তাহলে তাদের জন্যই হিতে বিপরীত হবে। কিন্তু আমরা তাদের শক্তিশালী হতে দেব না ইনশাল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আর কথার ফুলঝুরি চাই না। আমরা কাজ দেখতে চাই। আমরা আর মাত্র প্রেজেন্টেশন দেখতে চাই না। বিভিন্ন বিষয়ে আমরা আমাদের জায়গা থেকে দেখতে চাই, আপনারা এগুলোকে কাজে পরিণত করেছেন। আমরা দেখলাম, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে একজন মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়েছেন। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় সবসময় ঠিক রাখা উচিত। কারণ সামগ্রিকভাবে দেশের স্থিতিশীলতা ঠিক রাখতে তার নিরাপত্তা ঠিক রাখতে হবে।
সারাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে পরামর্শ দিতে বলেছিলেন। পরবর্তীতে এনসিপির যারা সংসদ সদস্য রয়েছেন তারা পরামর্শগুলো লিখিতভাবে পাঠিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সংসদে আলোচনাও করেছেন। কিন্তু সরকারি দল শুধু লোক দেখানোর জন্য বলেন, পরামর্শ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে কাজে না লাগায়, অথবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় তাদেরকে না ডাকে তাহলে কোনো রেজাল্ট আসবে না। আমরা দেখি এটা শুধু মানুষকে দেখানোর জন্য করা হচ্ছে। কিন্তু যা করার নিজের দু-চারজন আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নিয়ে করা হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছা থাকলে আমরা সরকারকে যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি গত ছয় মাসে তেল গ্যাস বিদ্যুতের সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। এগুলো থেকে উত্তরণের জন্য শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বিএনপি কাজ করবে। যদি বিরোধী দলকে সাথে চায় বিরোধী দল সাথে থাকবে। আর যদি কাজ না করে শুধু কে কোথা থেকে কি নিতে পারবে, কতটুকু অংশ পাবে ও কতটুকু ভাগ পাবে এই যদি চিন্তা হয়, তাহলে বিরোধী দলকে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে।
আজমিরী হক বাঁধনকে হেনস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধী ও স্বৈরাচারের একদম স্বীকৃত দোসর ছিল, মানুষের উপর অন্যায় করেছে এবং অপরাধ করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি, অনেক জায়গায় তাদেরকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এটা দেওয়া হচ্ছে বলেই, আমরা দেখলাম গতকাল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব আজমিরী হক বাঁধন, যিনি আমাদের জুলাইয়ের একজন সহযোদ্ধা, স্বৈরাচার ও খুনির বিরুদ্ধে নেমেছিলেন; তাকে যখন ওই পতিত স্বৈরাচারের কাছে যারা বিবেক বিক্রি করে দিয়েছে তরা হেনস্তা করে তখন তো আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কিন্তু আমরা বিএনপির জায়গা থেকে কোনো দলীয় স্টেটমেন্ট ও কোনো ব্যবস্থা দেখলাম না। এটা বাংলাদেশের যারা অফিসিয়াল দায়িত্বে আছেন তারা মিলে ওই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং যারা একজন নারীকে এভাবে হেনস্তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে যাতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়ে তা নিশ্চিত করতে হবে।
হামলার শিকার চোখ হারানো অলিফের বিষয়ে সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভাই অলিফের একটা চোখ রড দিয়ে তুলে ফেলা হয়েছে এবং সারাজীবন সে চোখে দেখতে পারবে না। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২০-৩০ জন মিলে হামলা করেছে তাদের কথা বাদ দিলাম, কিন্তু যে একজন রড দিয়ে আঘাত করলো তাকে তো অন্তত গ্রেপ্তার করার দরকার ছিল। বিএনপি যদি শুধু দলীয় কর্মী দেখে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া শুরু করে, তাহলে একদিন তারা অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে।
এ ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এককভাবে প্রার্থী দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।