ভূঞাপুরে সাড়ে ৩ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা বিকল
আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার সাড়ে ৩ লাখ টাকার সিসি ক্যামেরা অচল। নজরদারী তুঙ্গে ওঠেছে।
ভূঞাপুর শহরের নিরাপত্তা জোরদার, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য পৌরসভার অর্থায়নে স্থাপন করা ৪০টি সিসি ক্যামেরাই বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে আছে। এতে পৌরসভার প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নেয়া উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য তৎকালীন পৌর প্রশাসক ৪০টি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেন। এ কাজের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স বাজারের আশিকুর রহমান সুরুজকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজের দায়িত্ব দেয়। পরে তিনি গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ফাতেমা কম্পিউটার নামের একটি দোকান থেকে ৪০টি ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করে স্থাপনের কাজ শুরু করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থাপনের কয়েক মাসের মধ্যেই ক্যামেরাগুলো বিকল হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি পৌর শহরে একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে বিষয়টি সামনে আসে। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা দেখতে পান, স্থাপন করা ক্যামেরাগুলো থেকে কোনো ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পৌরসভা সূত্রও জানিয়েছে, বর্তমানে ক্যামেরাগুলো অচল অবস্থায় পড়ে আছে। শহরের নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো বিকল হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আলমগীর হোসেন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, যারা নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করেছে তারা সরকারের অর্থ নষ্ট করেছে। তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত এবং সিসি ক্যামেরা পুনরায় সংস্কার করা দরকার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্পটিতে Hikvision ব্র্যান্ডের ৪ মেগাপিক্সেল ও ২ মেগাপিক্সেলের মোট ৪০টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যামেরার মূল্য হিসেবে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ধরা হয়েছে। ক্যামেরা স্থাপনে ব্যবহৃত ক্যাবলের প্রতি মিটারের মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ টাকা। তবে প্রতিটি ক্যামেরার ১ বছর ওয়ারেন্টি রয়েছে বলে বিক্রেতার বিলে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কিংবা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্যামেরাগুলো কেন বিকল হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আশিকুর রহমান সুরুজ বলেন, “বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণেও সিসি ক্যামেরার চার্জারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমি শতভাগ স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করেছি। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যেই কাজ সীমাবদ্ধ রাখিনি; বরং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বরাদ্দের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে।
তাদের মতে, সিসি ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হতো। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেত।
এ অবস্থায় পৌরসভার অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্যামেরা স্থাপনের কাজের মান, ব্যবহৃত সরঞ্জামের গুণগত মান ও ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের পাশাপাশি দ্রুত সবগুলো ক্যামেরা সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক বলেন, “সিসি ক্যামেরাগুলোর অচল হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। কারিগরি বা অন্য কোনো ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা ও পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।