লোডশেডিং, সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পে জালানি ব্যয় বেড়েছে চারগুণ
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: তাঁত শিল্পের সব কিছু এখন উলোটপালোট হয়ে যাচ্ছে। একটি জামদানি শাড়ি পাওয়ারলুমে (বিদ্যুৎ চালিত তাঁত) আগে উৎপাদন খরচ হতো ৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেটা ডিজেল চালিত জেনারেটরে খরচ বেড়ে চার গুন হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি শাড়ি তৈরীতে জালানি খরচ হচ্ছে ১৬০ টাকা। এখন বিদ্যুৎ ও জালানি সংকটে তাঁত শিল্পে হাহাকার শুরু হয়েছে।
কথা গুলো এভাবেই হতাশার সুরে বলেছেন কয়েক যুগ ধরে তাঁত ব্যবসার সাথে যুক্ত খামারগ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আফজাল হোসেন লাভলু। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন চৌহালী উপজেলাধীন এনায়েতপুর থানার খামার গ্রামে লাভলু-বাবলু কম্পোজিট টেক্সটাইলের তাঁত কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বিদ্যুৎ চালিত তাঁত পাওয়ার লুম মেশিন বন্ধ করে শ্রমিকরা বাহিরে বসে লুডু খেলছে।
অনেকে মোবাইলে গান শুনছে, আবার কেউ অলস সময় কাটাচ্ছে । খামারগ্রামের তাঁত শ্রমিক জুলমাত বলেন, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের ফলে কাপড় তৈরী করতে পারছি না। অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কাজ না থাকায় সংসারের ব্যয় নির্বাহ এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। দেনা করে চলতে হচ্ছে। শ্রমিক শহিদুল, জামাল ও সোলায়মান জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁত বন্ধ, ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না তাই মেশিন বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে লুডু খেলে সময় পার করছি। এদিকে মালিকপক্ষ বলছেন, অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও চাহিদামত জালানি পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতিদের কাপড় উৎপাদন কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো অর্ডার ডেলিভারি দিতে না পারায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই পেশা বদল করছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তাঁত কল। কেউ কেউ ব্যাংক লোন নিয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। শিল্প-সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁত কুঞ্জ ব্র্যান্ডিং জেলা সিরাজগঞ্জ। একসময় দেশের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী শিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। বেলকুচি ও এনায়েতপুর সহ জেলার ৯টি উপজেলায় প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল। পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম মিলিয়ে জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ তাঁত ছিল।
তবে অব্যাহত লোডশেডিং ও জালানি সংকট সহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, বাজারের অস্থিরতা ও নীতিগত সমস্যার কারণে ইতিমধ্যে বহু তাঁতকল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতে কাপড় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে জালানি খরচ বেড়েছে কয়েক গুন। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকরা বেকার বসে থাকছেন। এবিষয়ে জাতীয় তাঁতি সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস ছামাদ খান বলেন, বড় বড় তাঁত কারখানা মালিকেরা চড়া দামে ডিজেল কিনে চারগুন খরচ বৃদ্ধি করে কাপড় তৈরী করছে।
বাজারে টিকে থাকার লড়াই করছে। তবে প্রান্তিক তাঁতীরা, যাদের ৫-১০ তাঁত তারা বিপাকে পড়ে তাঁতকল বন্ধ করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৫ লাখের মধ্যে জেনারেটর (ডিজেল চালিত) ও হস্তচালিত দুই লাখ বাদে বাকি তাঁতকল বন্ধ হবার পথে। এতে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। দ্রুত সকল সংকট ও সমস্যা নিরসন করতে হবে। না হলে ধ্বংসের মুখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।