মুনছুরনগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ীতে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ির পার্শ্ববর্তী কাজীপুরের মুনছুরনগর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লাল চান ওরফে লালু মিয়া বাদী হয়ে গতকালদ বৃহস্পতিবার কাজীপুর কোর্ট সিরাজগঞ্জ আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাজীপুর উপজেলার মনছুরনগর ইউনিয়নের পূর্ব মাজনাবাড়ী গ্রামের নেদু ভূঁইয়ার ছেলে লাল চান ওরফে লালু মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার একটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল।
এর জেরে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ঐ এলাকার মৃত দানেছ মণ্ডলের ছেলে আফছার আলীকে প্রধান আসামি ও ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বুধবার রাতে অভিযুক্তরা লোহার রড, কাঠের বাটাম, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুক্তভোগীর মুদি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকান ভাঙচুর করে এবং প্রায় ৪ লাখ ২৯ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
একই সঙ্গে হামলাকারীরা দোকান পরিচালনা করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতেও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে তারা দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ঘরে থাকা নগদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকার (চেইন ও কানের দুল) যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেয়।
এছাড়া পানির মোটর পাম্পসহ অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করে আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। ভুক্তভোগী লালু মিয়া অভিযোগ করে জানান, চাদার দাবিতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ীতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় হামলাকারীরা লুটপাট করে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আফছার আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লালু মিয়া পেট্রোল মজুদ রেখে বেশি দামে তা বিক্রি করছিল।
এলাকার মানুষ তাতে বাধা দিলে উল্টো আমাদের নামে তিনি মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মোতাহার হোসেন জানান, দলীয় নাম ভাঙ্গিয়ে একটি চক্র চাঁদা না পেয়ে এই হামলা ও লুটপাট করেছে। আমি নিজে বাঁধা প্রদান করলেও তারা মানেননি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।