বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

ডিভোর্সের জেরে চাটমোহর হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সকে কুপিয়ে জখম, সাবেক স্বামী সেনা সদস্য পলাতক

সঞ্জিত চক্রবর্তী, পাবনা প্রতিনিধি: ডিভোর্স দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত এক সিনিয়র স্টাফ নার্সকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী, পেশায় সেনা সদস্য, আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আহত নার্সের নাম সুলতানা জাহান ডলি (৪৬)। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সেনা সদস্য পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টার দিকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর ও জরুরি বিভাগের মাঝামাঝি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই সময় নাইট ডিউটি শেষে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নার্স ডলি। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, হঠাৎ করে সাবেক স্বামী আমিরুল ইসলাম হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নার্স ডলির গলা, পেট, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যান।

পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেন। গলায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে এবং তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত নার্স সুলতানা জাহান ডলি পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া উপজেলার কুষ্টিয়াপাড়া এলাকার শাহজাহান আলীর মেয়ে। তিনি সম্প্রতি সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন।

অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মল্লিকবাইন এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে এবং বর্তমানে রাঙামাটিতে সেনা সদস্য হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে। আহত নার্স ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় সংসার। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। একাধিকবার বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের পর চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সুলতানা জাহান ডলি আমিরুল ইসলামকে চূড়ান্তভাবে ডিভোর্স দেন।

ডিভোর্সের পর থেকেই আমিরুল ইসলাম তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন ডলি। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং সহকর্মীদের কাছে পাঠিয়ে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে ঘটনার আগের দিন চাটমোহর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী নার্স।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তালাকের পর তাকে হত্যা ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। জিডিতে এসব ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর নামও উল্লেখ করা হয়। চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বলেন, “আহত নার্সকে আমাদের এখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গলায় আঘাত গুরুতর হওয়ায় এখনো তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনায় আমরা মর্মাহত।” চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেনা সদস্য আমিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়