,

শিরোনাম

ভূঞাপুরে ব্রিজের নিচে সোনার সংসার

আখতার হোসেন খান, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: “আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও/ রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও …।” কবি জসীম উদদীন যদি সোনা খলিফার সংসার দেখতো তবে হয়তো কবিতা হতো এমন Ñ সোনার সংসার দেখতে যদি তোরা সবে চাও/ লৌহজংয়ের নদীর তীরে ব্রিজের নিচে যাও …। হ্যাঁ বলছিলাম, অসুস্থ বয়োবৃদ্ধ এক ভূমিহীন সোনা খলিফার সংসারের কথা।

আসমানীর তাও বাড়ি ছিলো। কিন্তু সোনা খলিফার বাড়ি টুকুও নাই। তিনি বাবা-মায়ের কাছে আদরের ‘সোনা’ হলেও বাস্তব জীবনে অবহেলিত, সহায় সম্বলহীন, ঘর-বাড়িহীন ব্রিজের তলে বসবাস করা এক বাসিন্দা। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা ও পৌর সভার বামনহাটা লৌহজং নদীর ব্রিজের নিচে সংসার করছে এক ভূমিহীন অহায় পরিবার। তার নাম সোনা খলিফা।

উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের জয়পুর চরের বাসিন্দা হারু খলিফার ছেলে ৭০ বছর বয়সী ‘সোনা বুড়া’ খ্যাত সোনা খলিফা যমুনার করাল গ্রাসে বাড়ি ঘর হারিয়ে বামনহাটা গ্রামে আশ্রয় নেন প্রায় ২০ বছর আগে। তখন একজন হিতৈষী তার পতিত ভিটায় আশ্রয় দিয়ে ছিলেন। তার মৃত্যুর পরে সে জমিটি থেকে সোনার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলে অসহায় হয়ে পড়ে সোনার পরিবার। বর্ষাকালে সরকারি স্কুল অথবা সড়কের ওপর পলিথিন দিয়ে ছাউনি তুলে থাকতে হয় তাদের। অসুস্থ বৃদ্ধ সোনা খলিফার সম্পদ বলতে একটি ভাঙা চুড়া পা চালিত ভ্যান।

তাও একজনের বেশি যাত্রি টানতে পারেন না তিনি। দিন শেষে কামাই রোজগার বলতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তাই দিয়ে সংসার চালায় সোনা খলিফা। শরীরে এবং বয়সে বৃদ্ধ হলেও পান না বয়স্ক ভাতাও। জাতীয় পরিচয় পত্রে ভুলক্রমে বয়স কম হওয়ায়, বয়স্ক ভাতাও পাচ্ছেন না তিনি। ভিটে থেকে উচ্ছেদের কারণে মাথা গোজার ঠাঁই টুকু হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে সোনা খলিফা। সোনা খলিফার তিন মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে পড়ে মহা বিপাকে। পর্যায়ক্রমে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন । তারা শ্বশুর বাড়িতে চলে যায়।

বাড়ি-ঘর, আর থাকার জায়গা না থাকায় একমাত্র ছেলে চলে যায় শ্বশুর বাড়ি। এখন সে ঘর জামাই থাকে। শেষমেশ দিশেহারা হয়ে বামনহাটা বাজার থেকে রায়ের বাশালিয়া সড়কের লৌহজং নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের নিচে নদী তীর ঘেঁষে বসতি স্থাপন করে বসবাস করছে সোনার পরিবার। তিনি বলেন, বয়েশ অইছে আর শরীলে অসুখের কারণে ভ্যানে একজনের বেশি লোক টানতে পারি না।

সারা দিনে দেড়-দুইশ টেকা কামাই অয়, তাই দিয়া কোনোমতে সোংসার চালাই। জাগা জমি কিনার সামর্থ নাই তাই বিরিজের নিচে পরিবার নিয়া থাকি। একটু মাথা গোজার ঠাঁই দাবী করেন বৃদ্ধ সোনা খলিফা।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়