আলফাডাঙ্গায় রাইস মিলের ধোঁয়া ও দূষণ: এলাকাবাসীর অভিযোগের পর তদন্তে এসিল্যান্ড
আলমগীর কবির, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি রাইস মিল থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই এবং অতিরিক্ত ভারি যানবাহনের চলাচল নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। পরিবেশ দূষণ ও রাস্তা নষ্ট হওয়ার এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. কে. এম রাহানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
অভিযোগকারী, এলাকাবাসী এবং মিল মালিক উভয়ের বক্তব্য শোনার পর এসিল্যান্ড তাদের আগামী রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপজেলা ভূমি অফিসে দেখা করতে বলেছেন।
অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা শুভ মণ্ডল জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে কুসুমদী গ্রামের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিপ্লব কুন্ডু পলাশ ‘শ্যামা রাইস মিল’ নামে একটি চাতাল স্থাপন করেন। এই চাতালে ধান সিদ্ধ ও শুকানোর জন্য অপরিকল্পিতভাবে চুলা ব্যবহার করা হয়, যার ধোঁয়া ও ছাই আশেপাশের বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
শুভ মণ্ডল বলেন, চুলার ছাই আর ধোঁয়ার কারণে আমাদের বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়ে এবং বয়স্করা শ্বাসকষ্টে ভুগছে। গরমে চুলার তাপের কারণে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ধানের ভাঙ্গার কূড়ার ধুলাও আমাদের অনেক ক্ষতি করছে ও বিষিয়ে তুলছে।
আরেক ভুক্তভোগী মরনি মন্ডল বলেন, আমরা বারবার মিল মালিককে অনুরোধ করেছি চাতালটি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে, কিন্তু তিনি আমাদের কথায় কান দেননা।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা সুকুমার কীর্তনীয়া অভিযোগ করে বলেন, এই চাতালের মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য ১৫-২০ টনের বড় ট্রাক আমাদের গ্রামের লোকাল কার্পেটিং সরু রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এতে রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে এবং চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শ্যামা রাইস মিলের মালিক বিপ্লব কুন্ডু পলাশ জানান, তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের সব নিয়ম মেনেই মিল পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, আমি সব কাগজপত্র জমা দিতে প্রস্তুত। রাস্তার ক্ষতি কিংবা পরিবেশ দূষণের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি শতর্ক থাকবো।
এলাকাবাসীর অভিযোগের পর সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. কে. এম রাহানুর রহমান বলেন, আমি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অভিযোগকারী ও রাইস মিলের মালিককে আগামীকাল রবিবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আমার অফিসে আসতে বলেছি। উভয় পক্ষের কাগজ পরীক্ষা করে এবং পরিবেশ দূষণ বিষয়ক আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।