বুধবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মামাখালীর গ্রামবাসী বন্দি কাঁদার ফাঁদে

সঞ্জিত চক্রবর্তী, পাবনা প্রতিনিধি: স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পাবনার চাটমোহর উপজেলার একটি গ্রামে আজও পৌঁছেনি পিচঢালা রাস্তার ছোঁয়া। বর্ষা এলেই সেই গ্রামটি যেন পরিণত হয় কাঁদার এক অচল জনপদে। উপজেলার ছাইকোলা ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত বনমালীনগর। স্থানীয়দের কাছে পরিচিত মামাখালী নামে। গ্রামজুড়ে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, শিক্ষিত জনশক্তি।

কিন্তু নেই একটি পাকা রাস্তা। যোগাযোগের একমাত্র ভরসা মামাখালী পূর্বপাড়া থেকে বরদানগর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়ক। এই কাঁচা সড়কটিই ২০-২৫ হাজার মানুষের ভোগান্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলে সড়কটি পুরোপুরি পানিতে ডুবে যায়। তখন তিন-চার মাস পর্যন্ত গ্রামবাসী কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হয় সবাইকে। যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাও দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। স্কুলগামী শিশুদের কষ্ট হয় সবচেয়ে বেশি।

প্রতিদিন কাদায় ভিজে খাতা-পত্র নষ্ট হওয়া, হোঁচট খেয়ে পড়ে যাওয়া তাদের জীবনের নিত্যদিনের গল্প। ৮০ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল হাকিম ক্ষোভ মিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, “এত বছর হইল দেশ স্বাধীন হইছে, কিন্তু আমরা একটা পাকা রাস্তা পাইলাম না। কাদায় গরু চলে না, মানুষ চলবে কীভাবে?” একজন মা দুঃখ প্রকাশ, করে বলেন, “আমার ছোট ছেলে স্কুলে যায়। প্রতিদিন বই খাতা ভিজে যায়। কখনো পড়ে কাদায়, তখন খুব কষ্ট লাগে।

সরকার কি দেখবে না আমাদের দুঃখ?” বলেন গৃহবধূ সাবিনা খাতুন। স্থানীয় দর্জি আছান মিয়ার ভাষায়, “নির্বাচনের সময় নেতারা আশ্বাসের ফুলঝুরি ছাড়ে—এই রাস্তা পাকা হবে, উন্নয়ন হবে। কিন্তু ভোট গেলেই আর কেউ ফিরে তাকায় না।” অন্যদিকে, গ্রামের একমাত্র পুরোনো মসজিদের ইমাম মাওলানা জয়দার আলী বলেন, “বর্ষায় রাস্তা এমন পিচ্ছিল হয় যে, মুসুল্লিরা নামাজেও আসতে পারে না।

নামাজে না যেতে পারা মুসলমানদের জন্য কতটা কষ্টের, তা শুধু আমরাই জানি।” প্রশাসনিক জটিলতা যে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে, সেটাও স্পষ্ট। গ্রামের একাংশ ছাইকোলা ইউনিয়নের অধীনে, অন্য অংশ নিমাইচড়া ইউনিয়নের আওতায় হওয়ায় উন্নয়ন উদ্যোগ বারবার বিভক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে পিছিয়ে পড়া মামাখালী যেন রয়ে গেছে সময়ের অনেক পিছনে। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, মামাখালী পূর্বপাড়া থেকে বরদানগর পর্যন্ত রাস্তাটি প্রথমে উঁচু করে তারপর পাকাকরণ করা হোক।

এটি তাদের একমাত্র চলাচলের পথ এবং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, “চাটমোহর উপজেলায় বর্তমানে মোট ৬৯৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে পাকা সড়ক রয়েছে ৩০০ কিলোমিটার। বাকি ৩৯৭ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে।

গত বছরের ৫ আগস্টের পর নতুন কোনো প্রকল্প আসেনি। তবে নতুন প্রকল্প পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার করা হবে। সরকারি উদ্যোগ ও জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা থাকলে এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। আর যেন ৫৫ বছরের কান্না আর যেন ৫৬ বছরে না গড়ায়, এটাই মামাখালীবাসীর প্রত্যাশা।

সংবাদের আলো বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই সপ্তাহের পাঠকপ্রিয়